HSC রসায়ন ২য় পত্র (Srijonshil) সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর অধ্যায়-৪ pdf download ~ Exam Cares

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন-১. কুপরিবাহী কী?

উত্তর: কুপরিবাহী হলো ঐসব পদার্থ যাদের ভেতর দিয়ে খুব সামান্য পরিমাণ তড়িৎ পরিবহণ করে।

প্রশ্ন-২. ধাতব পরিবাহী কী?

উত্তর: ধতব পরিবাহী হলো ঐ সকল পরিবাহী যারা ইলেকট্রনের চলাচলের মাধ্যমে তড়িৎ পরিবহন করে।

প্রশ্ন-৩. তড়িদদ্বার কী?

উত্তর: তড়িদদ্বার হলো দ্রবীভূত তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে নিমজ্জিত ধাতব পাত বা দন্ড।

প্রশ্ন-৪. ক্যাথোড কী?

উত্তর: ক্যাথোড হলো ঐ তড়িদদ্বার যা ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারী থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে।

প্রশ্ন-৫. ক্যাটায়ন কী?

উত্তর: তড়িৎবিশ্লেষ্য গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় যে ধনাত্মক আয়ন সৃষ্টি করে এবং যা ক্যাথোড কর্তৃক আকৃষ্ট হয় তাই হলো ক্যাটায়ন।

প্রশ্ন-৬. তড়িৎ পরিবাহিতা কী?

উত্তর: তড়িৎ পরিবাহিতা হলো পদার্থের মধ্যদিয়ে তড়িৎ পরিবহণের ধর্ম।

প্রশ্ন-৭. তড়িৎ প্রবাহ কী?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহ হলো একটি তড়িৎ পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে প্রবাহিত আধান বা চার্জের পরিমান।

প্রশ্ন-৮. ফ্যারাড কী?

উত্তর: একযোজী 1.0 মোল আয়নকে চার্জমুক্ত করতে তথা 1.0 মোল ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি করতে যে বিদ্যুৎ চার্জ প্রয়োজন বা 1.0 মোল ইলেকট্রনের প্রবাহ দ্বার যে বিদ্যুৎ চার্জ উৎপন্ন হয় তারই নাম ফ্যারাড (F) ।

প্রশ্ন-৯. ব্রাইন কাকে বলে?

উত্তর: সোডিয়াম ক্লোরাইডের গাঢ় জলীয় দ্রবণকে ব্রাইন বলে।

প্রশ্ন-১০. করোসান কী?

উত্তর; করোসান হলো ধাতুর সঙ্গে পরিবশে উপস্থিত বস্তুসমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়া ফলে ধাতুর ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়া।

প্রশ্ন-১১. জারণ বিভব কী?

উত্তর: জারণ বিভব হলো ইলেকট্রন অজসারণ করে জারণ ঘটাতে প্রয়োজনীয় শক্তি।

প্রশ্ন-১২. মরিচা কী?

উত্তর: লোহাকে দীর্ঘদিন খোলা আবহাওয়ায় ফেলে রাখলে এর উপর এক ধরনের বাদামী আস্তরণ পড়ে। এ বাদামী বর্ণের আস্তরণই হলো মরিচা।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

HSC Chemistry 2nd Paper

Chapter-4

Srijonshil

Question and Answer pdf download

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন-১. ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী কীভাবে তড়িৎ পরিবহন করে?

উত্তর: যেসব যৌগ দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে তাদের ইলেকট্রলাইটিক পরিবাহী বলে। এসব যৌগ গলিত অবস্থায় এবং জলীয় দ্রবণে এদেও কেলাস ল্যাটিস বা কেলাস জালি থেকে মুক্ত হয়ে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নরুপে সঞ্চরনশীল থাকে বলে তড়িৎ পরিবহর করতে পারে। তখন ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নগুলো যথাক্রমে ইলেকট্রন গ্রহণ ও বর্জন করে ফলে তড়িৎ প্রবাহিত হয়।

প্রশ্ন-২. কীভাবে মরিচা সৃষ্টি হয়?

উত্তর: মরিচা হলো সোদক ফেরোসোফেরিক অক্সাইড ( )। লোহাকে দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় পরিবেশে ফেলে রাখলে এর গায়ে মাছের আঁশের মতো পাতলা ধূসর বর্ণের আবরণ পড়ে। এক সময় তা লৌহ খন্ডের উপর থেকে খসে পড়ে। এটিই মরিচা। স্থানীয় ভাষায় একে জং বলে।

প্রশ্ন-৩. কীভাবে ধাতুর ক্ষয় নিবারণ করা যায়?

উত্তর: বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ধাতুর ক্ষয় নিবারণ করা যায়। যেমন-

১. কোনো ধাতুকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ধাতুটি কোনোভাবেই যেন অ্যানোড হিসেবে কাজ করতে না পারে।

২. বাইরের কোনো উৎস থেকে তড়িৎ প্রবাহিত করে উভয় তড়িদদ্বারের বিভবের মান সমান অথবা অ্যানোডের জারণ বিভবেব মান কমিয়ে ধাতুকে ক্ষয়মুক্ত রাখা যায়।

৩. ধাতুর পরিবর্তে সংকর ব্যবহার করে অ্যানোডের জারণ হ্রাস করা যায়।

প্রশ্ন-৪. কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: তড়িৎ রাসায়নিক কোষর জারণ ও বিজারণ বিক্রিয়ার সময় জারণ অর্ধকোষে ক্যাটায়ন ও বিজারণ অর্ধকোষে অ্যানায়নের আধিক্য ঘটে। ফলে তড়িৎ প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং হ্রাস পেতে পেতে এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে পূর্নঙ্গ তড়িৎ বাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষত্রে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়। লবণ সেতুতে বর্তমান তড়িৎবিশ্লেষ্য ক্যাটায়ন ও আনায়ন অর্ধকোষের দ্রবণে পরিবব্যপ্ত হয়ে উভয় দ্রবণের তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে।

প্রশ্ন-৫. তড়িদদ্বার কখন অ্যানোড বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে?

উত্তর: কোনো তড়িদদ্বারের বিভব জারণ অথবা বিজারণ বিভব হিসেবে প্রকাশ করা যায়। বিভব যতো ধনাত্মক হবে তড়িদদ্বারটি ততই অ্যানোড বা ঋণাত্মক তড়িদদ্বার হিসেবে আচরণ করবে। আর বিভব যতো ঋণাত্মক হবে তড়িদদ্বারটি ততোই ক্যাথোড বা ধনাত্মক তড়িদদ্বার হিসেবে কাজ করবে।

You may also read…

HSC Chemistry 2nd Paper

MCQ

Question and Answer pdf download

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

প্রশ্ন-৬. ফ্যারাডের সূত্র কোন ক্ষত্রে প্রযোজ্য?

উত্তর: ফ্যারাডের সূত্রের প্রযোজ্যতা:

১. ফ্যারাডের সূত্রের ইলেকট্রোলাইটের তাপমাত্রা; চাপ, দ্রবীভূত দ্রাবক, দ্রবণের ঘনমাত্রা এর কোনো প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ এসব নিয়ামক সূত্রকে কোনোরুপ প্রভাবিত করে না।

২. ইলেকট্রোলাইটের দ্রবণে ও গলিত উভয় অবস্থার ক্ষত্রেই ফ্যারাডের সূত্র সমভাবে প্রযোজ্য।

৩. একই মৌলের বিভিন্ন আয়নিক অবস্থার দ্রবণের ক্ষত্রে এ সূত্র সমানভাবে প্রযোজ্য।

প্রশ্ন-৭. ফ্যারাডের সূত্র কোন ক্ষত্রে প্রযোজ্য নয়?

উত্তর: ফ্যারাডের সূত্র নিম্ন লিখিত ক্ষত্রে প্রযোজ্য নয়:

১. ফ্যারাহের সূত্র ইলেকট্রনীয় পরিবাহিতার ক্ষত্রে প্রযোজ্য নয়।

২. তড়িৎ প্রবাহের ফলে কোনোরুপ রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় না। এক্ষত্রেও এ সূত্র প্রযোজ্য নয়।

তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের ফলে একই সাথে একাধিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় না। এক্ষত্রেও এ সূত্র প্রযোজ্য নয়।

৩. তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের ফলে একই সাথে একাধীক বিক্রিয়া সংঘটিত হলে ফ্যারাডের সূত্রের গণনার ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।

৪. যেসব ক্ষত্রে ১০০ ভাগ ইলেকট্রোলাইটিক পদ্ধতিতে তড়িৎ বিশ্লেষণ ঘটে। শুধু যেসব ক্ষত্রেই এ সূত্র প্রযোজ্য।

৫. কোনো তড়িৎ বিশ্লেষ্যে একই সাথে জারণ-বিজারণ ঘটলে ফ্যাডের সূত্রের গণনার ক্ষত্রে ত্রুটি দেখা যায়।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

HSC Chemistry 2nd Paper

Chapter-4

Srijonshil

Question and Answer

১নং সৃজনশীল প্রশ্নঃ

তুঁতের দ্রবণে তার দন্ড ব্যবহার করলে তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিজারণের ফলে ধতব আয়ন চার্জমুক্ত হয় এবং জারণের ফলে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু জারণ দন্ড হিসেবে 78 পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট ধাতু ব্যবহার করলে জারণের ফলে 8 পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট গ্যাস উৎপন্ন হয়।

ক. ইলেকট্রোড কী?

খ. তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় ঘনমাত্রা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে?

গ. উদ্দীপকে উলিস্নখিত গ্যাসটি উৎপন্ন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ব্যবহৃত ধাতব দন্ডের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

১নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ক).

ইলেকট্রোড হলো তড়িৎ রাসায়নিক কোষে ব্যবহৃত দুটি ধাতব পাত যার একটিতে জারণ এবং অপরটিতে বিজারণ ঘটে।

১নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (খ).

তড়িৎ বিশ্লেষণের ক্ষত্রে ঘনমাত্রার প্রভাব লক্ষ করা যায়। দ্রবণে কোনো এক বিশেয় আয়নের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে সেই আয়নটির চার্জমুক্ত হওয়ার প্রবণতা অপর আয়নের তুলনায় অধিক থাকে। যেমন- ব্রইনের তড়িৎ বিশ্লেষণের সময়  আয়নের বিজারণ বিভবের মান বেশি হলেও   আয়নের বিজারণ বিভবের মান বেশি থাকায় অ্যানোডে   আয়ন আগে চার্জমুক্ত হয়।

১নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (গ).

উদ্দীপকে উল্লেখিত 78 পারমাণবিক সংখ্যাবিশিস্ট ধাতুটি হলো প্লাটিনাম (pt)। জারণ দন্ড অর্থাৎ অ্যানোড হিসেবে pt দন্ড ব্যবহার করলে অ্যানোডে 8 পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট গ্যাস তথা অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।

ব্যাখ্যা: তুঁতে অর্থাৎ কপার সালফেট (II) -এর দ্রবণে প্লাটিনাম অ্যানোড ব্যবহার করলেও ক্যাথোড তড়িদদ্বার হিসেবে কপার বা তামার দন্ড ব্যবহার করা হয়। দ্রবণের মধ্যদিয়ে তড়িৎ বিশ্লেষণ করলে ক্যাথোড তড়িদদ্বারে    আয়ন চার্জমুক্ত হয়ে ধতব কপারে পরিণত হয় কিন্তু অ্যানোডে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। সময় যতো যেতে থাকে তুঁতে ততো দ্রবীভূত হয় এবং এর নীল বর্ণ বর্ণহীন হয়। ফলে তড়িৎবিশ্লেষ্য দ্রবণের এসিডিক প্রকৃতি বাড়তে থাকে। কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণ চার ধরণের আয়ন বহন করে। এর মধ্যে    ও   আসে কপার সালফেট থেকে এবং   ও   আয়ন আসে পানি থেকে। এদের মধ্যে ঋণাত্মক   ও   আয়ন অ্যানোড কর্তৃক আকৃষ্ট হয়। কিন্তু   এর তুলনায়   আয়ন সহজেই ইলেকট্রন ত্যাগ করে।   আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে ডিসচার্জড হয় এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে।

সালফেট ( ) আয়ন দ্রবণে রয়ে যায়। 

১নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ঘ).

উদ্দীপকে উল্লেখিত ধাতব দন্ড অর্থাৎ ইলেকট্রোড তড়িৎ বিশ্লেষণের ক্ষত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে কোন পদার্থ উৎপন্ন হবে তা মূলত এ তড়িদদ্বরের প্রভৃতির উপরই নির্ভর করে।

বিশ্লেষণ: ইলেকট্রোডের প্রকৃতির ইপর নির্ভর করে দ্রবণের চার্জযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা। ইলেকট্রোডের ভিন্নতার কারণে আয়নের চার্জবিমুক্তিও ভিন্ন হয়। যেমন- তুঁতের দ্রবণে ধাতব তার দন্ড অর্থাৎ ধাতব কপার ইলেকট্রোড ব্যবহার করলে ক্যাথোড তড়িদদ্বারে  আয়ন চার্জমুক্ত হয়ে ধাতুতে পরিণত হয়। এবং অ্যানোড তড়িদদ্বারে  ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে   আয়ন হিসেবে দ্রবণে দ্রবীভূত হয়। কিন্তু তুঁতের দ্রবণে প্লাটিনাম অ্যানোড ব্যবহার করলে ক্যাথোড তড়িদদ্বারে  আয়ন চার্জবিমুক্ত হলেও অ্যানোড তড়িদদ্বারে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।

আবার, NaCI  দ্রবণে pt তড়িদদ্বার ব্যবহার করে তড়িৎ বিশ্লেষণ করলে ক্যাথোড তড়িদদ্বারে   এর পরিবর্তে    আয়ন চার্জমুক্ত হয়। কিন্তু এক্ষত্রে যদি pt এর পিরবর্তে Hg কে ক্যাথোড তড়িদদ্বার হিসেবে ব্যবহার করা হয় তবে এক্ষত্রে   এর পরিবর্তে   চার্জমুক্ত হয়ে   ধাতুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ ইলেকট্রোড দ্বারাই তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপন্ন পদার্থ কী হবে তা নির্ণীত হয়।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

২নং সৃজনশীল প্রশ্নঃ

নিচের চিত্রটি (চিত্র সংক্রান্ত যে কোন তথ্য দেখার জন্য নিচের সংযুক্ত pdf ফাইলটি দেখার জন্য অনুরোধ করছি।) লক্ষ কর-

ক. গ্যালভানিক সেল কাকে বলে?

খ. ধাতু-ধাতব আয়ন অর্ধকোষ কীভাবে গঠন করা হয়?

গ. উদ্দীপকের উল্লেখিত সেটি কীভাবে কাজ করে বর্ণনা কর।

ঘ. A চিহ্ন অংশটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

২নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ক).

রাসায়নিক বিক্রিয়ার দ্বরা এবং বাহ্যিক বিদ্যুৎ প্রবাহ ছাড়া যে কোষে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় তাকেই গ্যালভানিক কোষ বলে।

২নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (খ).

কোনো একটি কঠিন ধাতুর সংস্পর্শে ঐ ধাতুর আয়নের দ্রবণ নিয়ে ধাতু-ধাতব আয়ন অর্ধকোষ গঠিত হয়। কোনো একটি ধাতু যদি M হয় এবং M ধাতুটি  n সংখ্যক ইলেকট্রন ত্যাগ করে   আয়ন গঠন করে তবে তাদের দ্বারা গঠিত অর্ধকোষ হবে  । যেমন-    ইত্যাদি।

২নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (গ).

উদ্দীপকে উল্লেখিত সেলটি হলো দু্ই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গ্যালভানিক সেল বা কোষ।

গ্যলভানিক সেল যেভাবে কাজ করে: গ্যালভানিক বা ড্যানিয়েল সেল হলো এক প্রকার তড়িৎ রাসায়নিক কোষ। এ কোষে জিঙ্কের একটি পাত জিঙ্ক লবণের দ্রবণে   এবং একটি কপার পাত কপার লবণের দ্রবণে ( ) আংশিক ডুবিয়ে রেখে পাত দুটির উপরের অংশকে তার দ্বারা যুক্ত করা হয়। এতে তারের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এক্ষত্রে জিঙ্ক দন্ড ঋণাত্মক প্রান্ত এবং কপার দন্ড ধনাত্মক প্রন্ত হিসেবে কাজ করে। জিঙ্ক ও কপার লবণদ্বয়ের দ্রবণ একটি সচ্ছিদ্র প্রাচীর দ্বারা পৃথক করা থাকে। ড্যানিয়েল কোষে জিঙ্ক জারিত হয়ে   আয়নে পরিণত হয় এবং দ্রবণে যায়। জিঙ্ক জারিত হয়ে যে দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে তা জিঙ্ক দন্ডেই সঞ্চিত হয়।

  (জারণ প্রক্রিয়া)

ইলেকট্রনদ্বয় জিঙ্কের পাত থেকে সংযোগ তারের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে কপার পাতে আসে এবং নিকটবর্তী কপার সালফেট দ্রবণের কপার আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে শোষিত হয় অর্থাৎ বিজারিত হয়। সেই সাথে ধাতব পাতে কপার জমা হয়।

  (বিজারণ প্রক্রিয়া)

সুতরাং ড্যানিয়েল কোষে সামগ্রিকভাবে নিমেণাক্ত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

 

এভাবে তড়িৎ কোষে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইলেকট্রন ত্যাগ ও শোষণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

২নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ঘ).

উদ্দীপকে উল্লেখিত কোষটির  চিহ্নিত  আকৃতির অংশটি লবণসেতু নামে পরিচিত। তড়িৎপ্রবাহ বজায় রাখতে লবণসেতু গুরুতবপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গুরুত্ব বিশ্লেষণ: দুটি ভিন্ন অর্ধকোষেরসেংযোগের ক্ষত্রে তাদের মধ্যে ই (U) আকৃতির কাচের নলের মধ্যে KCI, KNO  বা   এর 0.1 M ঘনমাত্রার দ্রবণ নিয়ে নলের মুখে তুলার প্যাড দিয়ে বন্ধ করে নলটিকে দুটি অর্ধকোষের দ্রবণে নিমজ্জিত করে পরোক্ষ সংযোগ স্থাপন করে লবণসেতু গঠন করা হয়। এ লবণসেতুর সংযোগের ফলেই দুটি অর্ধকোষের দ্রবণ সংযুক্ত হয়ে বৈদ্যুতিক বর্তনী পূর্ণ করে পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ সৃষ্টি করে থাকে। লবণসেতুতে বর্তমান তড়িৎ বিশ্লেষ্যেরক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন অর্ধকোষের দ্রবণে পরিব্যাপ্ত হয়ে উভয় দ্রবণের তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িদদ্বারে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় লবণসেতুর অনুপস্থিতিতে জারণ অর্ধকোষে ক্যাটায়ন ও বিজারণ অর্ধকোষে অ্যানায়নের আধিক্য ঘটে; অর্থাৎ পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটে। ফলে তড়িৎ প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং হ্রাস পেতে পেতে এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ উপস্থাপনের ক্ষত্রে বাম তড়িদদ্বার (জারণ তড়িদদ্বার) ও ডান তড়িদদ্বার (বিজারণ তড়িদদ্বার) এর সাথে লবণসেতুকে উপস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ কোষের তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখতে লবণসেতু খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

HSC Chemistry 2nd Paper

Chapter-4

Srijonshil

Question and Answer

৩নং সৃজনশীল প্রশ্নঃ

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

ক. হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল কী? 

খ. লবণ সেতুর গুরুত্ব উল্লেখ কর। 

গ. উদ্দীপকের কোষটির তড়িচ্চালক বলের মান হিসাব কর। 

ঘ. উদ্দীপকের খ পাত্রটি দস্তা নির্মিত হলে কোষটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ক্ষত্রে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

৩নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ক).

যে ফুয়েল সেলে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহার করা হয় তাকে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল বলে।

৩নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (খ).

তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহৃত হয়। তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িদ্দ্বারে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় লবণ সেতুর অনুপস্থিতিতে জারণ অর্ধকোষে ক্যাটায়ন ও বিজারণ অর্ধকোষে অ্যানায়নের আধিক্য ঘটে। ফলে তড়িৎ প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং হ্রাস পেতে পেতে এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই, পূর্ণ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ উপস্থাপনের ক্ষত্রে জারণ তড়িদ্দ্বার ও বিজারণ তড়িদ্দ্বারের সাথে লবণ সেতুকে উপস্থাপন করা হয় এক্ষত্রে লবণ সেতু গুরুত্ব বহন করে থাকে।

৩নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (গ).

তড়িচ্চালক কোষ Zn│Zn2+║Cu2+│Cu

প্রদত্ত কোষের অ্যানোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া Zn→Zn2++2e

ক্যাথোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া Cu2++2e→Cu

কোষ বিক্রিয়া, Zn + Cu2+= Zn2++Cu

প্রদত্ত জিঙ্ক আয়নের ঘনমাত্রা, [Zn+] = 0.2

কপার আয়নের ঘনমাত্রা, [Cu2+] = 0.2 M

অ্যানোডের প্রমাণ জারণ বিভব, Eºzn/zn2+=0.76 V

ক্যাথোডের প্রমাণ জারণ বিভব, EºCu/Cu2+=-0.34V

বিক্রিয়ায় স্থানান্তরিত ইলেকট্রনের মোল সংখ্যা, n = 2

কোষের তড়িচ্চলক বল, Ecell= ?

নার্নস্ট এর সমীকরণ থেকে আমরা জানি, 

Ecell=Eºcell-  ln  

=Eºanode(ox)-Eºcathod (red) –  

উদ্দীপকের কোষটির তড়িচ্চালক বলের মান 1.096V।

৩নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ঘ).

অ্যানোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া Zn→Zn2++2e

ক্যাথোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া, Cu2++2e→Cu

 

বিক্রিয়া দুটি যোগ করে পাই, Zn+Cu2+→Zn2+ + Cu

Eºt = Eox + Eºred = 0.76 + 0.34 = 1.1 V

যেহেতু, Eºt > 0

সুতরাং বিক্রিয়াটি স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটবে। ফলে কোষটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যাবে না।

রসায়ন ২য় পত্র অধ্যায়-৪ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি - HSC Chemistry 2nd Paper Chapter-4

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির গাইড

রসায়ন ২য় পত্র

অধ্যায়-৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

HSC Chemistry 2nd Paper

Chapter-4

Srijonshil

Question and Answer

৪নং সৃজনশীল প্রশ্নঃ

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

ক. কাইরাল কার্বন কি?

খ. গ্যাসের গতিতত্ত্বের দুইটি স্কীকার্য লিখ। 

গ. উদ্দীপকের আলোকে কোষ বিক্রিয়াটির মোট কোষ বিভব নির্ণয় কর। 

ঘ. উদ্দীপকের কোষটিতে সংঘটিত বিক্রিয়া সম্পন্ন করে কোষটি উপস্থাপন কর।

৪নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ক).

জৈব যৌগের অণুর ক্ষত্রে কোনো অণুতে কার্বন পরমাণুর সাথে চারটি পরস্পর ভিন্ন একযোজী পরমাণু বা মূলক যুক্ত থাকলে ঐ কার্বনকে অপ্রতিসম কার্বন বা কাইরাল কার্বন বলে।

৪নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (খ).

গ্যাসের গতিতত্ত্বের দুটি স্বীকার্য নিম্নরূপ:

১. গ্যাসের অণুসমূহের আয়তন: গ্যাসের অণুসমূহের আয়তন গ্যাসপাত্রের আয়তনের তুলনায় অতি নগণ্য। 

২. অণুসমূহের মধ্যকার আকর্ষণ: গ্যাসের অণুসমূহের নিজেদের মধ্যে এবং অণু ও রক্ষত গ্যাস পাত্রের দেয়ালের মধ্যে কোনো আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলে কার্যকরী থাকে না।

৪নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (গ).

এখানে,  বা    বা  

উদ্দীপকের তড়িদদ্বার দুইটর মধ্যে   তড়িদদ্বারের প্রমাণ বিজারণ বিভবের মান কম। কাজেই এটি অ্যানোড হিসেবে কাজ করবে এবং অপর  ক্যাথোড হিসেবে কাজ করবে। 

অ্যানোডে অর্ধকোষ বিক্রিয়া (জারণ):

ক্যাথোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া (বিজারণ):

সার্বিক কোষ বিক্রিয়া :  

এবং মোট কোষ বিভব  

 মোট কোষ বিভব  ।

৪নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: (ঘ).

উদ্দীপক অনুসারে, নিম্নরূপে সম্ভাব্য কোষটি গঠন করলে পাই-

 / 

এখানে, 

অ্যানোডে অর্ধকোষ বিক্রিয়া (জারণ):

 

ক্যাথোড অর্ধকোষ বিক্রিয়া (বিজারণ):

   সার্বিক কোষ বিক্রিয়া :  

এবং মোট কোষ বিভব  

 

এক্ষত্রে মোট কোষ বিভবের মান ধনাত্মক হয়েছে। অর্থাৎ  তড়িদদ্বারটিতে জারণ ও  তড়িদদ্বারটিতে বিজারণ ঘটেছে এবং বিক্রিয়াটি স্বতঃস্ফর্তভাবে ঘটেছে। কাজেই সম্ভাব্য কল্পিত কোষটি হবে প্রকৃত কোষ।

Leave a Comment