খ . উদ্দীপকে বর্ণিত রােগটি হলাে করােনা ভাইরাস । যা বর্তমান সময়ের আলােচিত ছোয়াচে একটি রােগ । এই রােগ থেকে। প্রতিরােধের অনেক উপায় রয়েছে।নিম্নে সে সম্পর্কে আলােকপাত করা হলাে …..
উপরােক্ত নিয়মগুলাে ভালােভাবে অনুসরণ করলে করােনা ভাইরাস প্রতিরােধ করা যাবে ।
৮ম/অষ্টম শ্রেণীর ষষ্ঠ সপ্তাহের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান | রােগের নাম ও প্রতিরােধক টিকার চার্ট তৈরি কর
২.রােগের নাম ও প্রতিরােধক টিকাঃ
রোগ প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই উত্তম । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যথাসেবায় সারিত টিকাদান কর্মসূচি ( ইপিআই ) একটি গুরুত্বপূর্ণ , উল্লেখযোগ্য ও সময় উপযােগী পদক্ষেপ । ইপিআই একটি বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি যার মূল লক্ষ্য হয়ে সরুফ ব্রোন্স থেকে শিশুদের অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব রোধ করা । তাই বিশ্বব্যাপী রোগ প্রতিরােধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় । এছাড়া রোগ হওয়ার আগে প্রতিরােধ করা অনেক সহজ এবং কম ব্যয় সাপেক্ষ নিম্নে রােগ ও প্রতিরােধক টিকার চার্ট দেওয়া হলােঃ
বিসিজি টিকা –যক্ষ্মা রােগে বিসিজি টিকা দেওয়া হয় । এই টিকা দেওয়ার ২ সপ্তাহ পর টিকার থন লাল হয়ে ফুলে যায় । আরও ২/৩ সন্তাহ পর শক্ত দানা , ক্ষত বা ঘা হতে পারে । ধীরে ধীরে এই ক্ষত বা ঘা শুকি যায় , দাগ থাকে । জর পরই এই টিকা দেওয়া হয় ।
ওপিভি টিকা – ওপিভি ( ওরাল পােলিও ভ্যাকসিন ) টিকা পােলিও ( পােলিও মাইলাইটিস ) রােগ প্রতিরােধ করে । জন্মের পর ৬ সপ্তাহের মধ্যে ১ ম ডােজ , ২৮ দিন পর ২য় ডােজ , পরবর্তী ২৮ দিন পর ৩ য় ডােজ এবং ৯ মাস পূর্ণ হলে ৪ র্থ ডােজ দিতে হয় ।
পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন – এই টিকা ৫ টি রােগ যেমন- ডিপথেরিয়া , চুপিংকাশি , ধনুষ্টংকার , হেপাটাইটিস – বি এবং হিমােফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা – বি প্রতিরোধ করে । জন্মের ৬ সপ্তাহ পর প্রথম ডােজ এবং ২ য় ও ৩ য় ভোজ ২৮ দিন অন্তর অন্তর দিতে হয় ।
হামের টিকা – হামের টিকা শিশুকে হাম রােগ থেকে প্রতিরােধ করে । শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে এই টিকা দিতে হয়। ।
টিটি টিকা –( টিটেনাস টক্সয়েড ) – টিটি টিকা ধনুষ্টংকার রােগ থেকে রক্ষা করে ।
১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সের সকল মহিলাকে এবং যে সকল শিশুর ডিপিটি / পেন্টাভ্যায়ে ঘিনি খিচুনি হয়েছে তাদের এই টিকা নিতে হবে ।
৮ম/অষ্টম শ্রেণীর ষষ্ঠ সপ্তাহের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান | যৌন হয়রানি বা যৌন নিপীড়নের শিকার হলে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন
৩.যৌন নিপীড়নের সাবধানতাঃ
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কৈশােরে ছেলেমেয়েদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঝুঁকি বেশি থাকে বখাটে দল কিংবা সহপাঠীদের দ্বারা যৌন হয়রানির মতাে ঘটনা ঘটতে পারে । কিন্তু যৌন নিপীড়ন সমবয়সী ছাড়াও নিকট আত্মীয় , পরিচিত ব্যক্তি , বয়ক যে কোনাে সদস্যদের দ্বারা হতে পারে । এসব প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়ােজন । আমাদের যে যে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সেগুলাে হলােঃ-
- বাড়িতে একা থাকলে সাবধানে থাকা
- পরিচিত , অপরিচিত কারও সাথে একা বেড়াতে না যাওয়া
- মন্দ স্পর্শ টের পেলে অবশ্যই তা সঙ্গে সঙ্গে মা – বাবাকে জানানাে
- কোনাে হয়রানির সম্মুখীন হলে কৌশলে পরিস্থিতি মােকাবিলা করা এবং বাবা – মা , শিক্ষক ও আপনজনকে জানানো ।
সৃজনশীল প্রশ্ন : মুন্না চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র । সে খেতে খুব পছন্দ করে । চকলেট , চিপস , ড্রিংকস তার খুব পছন্দ । ‘ ইদানীং সে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে হাঁপিয়ে যায় । বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলতে যায়না । অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ে । তার মা পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হলেন ৷
৪। ক ) উদ্দীপকের ছেলেটির সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা কর।
খ ) মুন্নার সমস্যা উত্তরণের উপায় বিশ্লেষণ কর ।
উদ্দীপকের ছেলেটির সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা কর
৪ ) ক.উদ্দীপকে বর্ণিত মুন্নার ওজনাধিক্যের সমস্যা রয়েছে ।
ওজনাধিক্য হচ্ছে শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া । অর্থাৎ বলা যায় যে , কারও শরীরের ওজন যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় , তখন সেই অবস্থাকে ওজনধিক্য বলে । প্রত্যেক বয়সের জন্য স্বাভাবিক ওজনের নিম্ন সীমা ও উচ্চ সীমা আছে । দেহের ওজন যখন সেই বয়সের জন্য নির্ধারিত সসর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে যায় তখনই ওজনাধিক্য দেখা দেয় ।
উদ্দীপকে বর্ণিত মুন্না চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।সে খেতে খুব পছন্দ করে । চকলেট , চিপস , ড্রিংকস তার খুব পছন্দ । সে সিড়ি বেয়ে উঠতে হাঁপিয়ে পড়ে । এসব সমস্যার মূল কারণ মুন্নার ওজনাধিক্য ।
দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলাে প্রয়ােজনের চেয়ে বেশি খাওয়া । আমরা প্রতিদিন যদি ক্যালরি বহূল খাদ্য দেহের প্রয়োজনে বেশি গ্রহণ করি এবং পরিশ্রম কম করি ও অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করি তা হলে এই অতিরিক্ত ক্যালরি আমাদের দেহে ফ্যাট আকারে জমা হবে এবং ধীরে ধীরে দেহের ওজন বৃদ্ধি পাৰে । এই ভাবে দেহের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ওজনাধিক্য দেখা দিবে ।
৮ম/অষ্টম শ্রেণীর ষষ্ঠ সপ্তাহের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান | মুন্নার সমস্যা উত্তরণের উপায় বিশ্লেষণ কর ।
খ.মুন্নার সমস্যা উত্তরণের উপায়ঃ শস্য ও শস্য জাতীয় খাদ্য যেমন- ভাত , রুটি , চিড়া , মুড়ি ইত্যাদি নির্ধারিত পরিমাণে খেতে খাবারগুলাে বেশি খেলে ওজন বেড়ে যাবে । মনে রাখতে হবে ভাত বুটির পরিবর্তে সমপরিমাণ পােলাও , খিচুরি , পরটা ইত্যাদি খাওয়া যাবে না । কারণ এই খাবারগুলােতে তেল বা ঘি থাকায় ভাত ও রুটির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি পাওয়া যায় ওই পােলাও , খিচুরি , পরটা ইত্যাদি খেতে হলে ভাত ও রুটিন অর্ধেক পরিমাণে গ্রহণ করাই বাঞ্চনীয়।
প্রতিবেলার খাদ্য তালিকাতে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি , মৌসুমী ফল ও টক ফল থাকতে হবে । এই খাবারগুলাে বেশি থাকা যাবে ।
প্রতিদিনের প্রয়ােজনীয় প্রাটিনের চাহিদা মেটানাের জন্য ডাল , বাদাম , মাছ , মাংস ও ডিম পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে ।
- শিশুদের খাদ্য তালিকায় দুধ থাকা প্রয়োজন । তাই চিনি বা গুর ছাড়া দুধ গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে এবং দুধের তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে ।
- নাশতা হিসাবে সব সময় কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল বাছাই করতে হবে । যে সকল খাদ্যে ক্যালরি বেশি থাকে সেই খাদ্য গ্রহণে শরীরের ওজন আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে । তাই ক্যালরি বল খাদ্য যেমন- তেলে ভাজা খাদ্য , ঘি , মাখন , চিনি ও গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টি জয় খাদ্য , বেবির তৈরি খাদ্য , কেক , পেস্ট্রি , বিস্কুট , সব ধরনের সফট ড্রিংস , চকলেট , ক্যাণ্ডি , আইসক্রিম , ইত্যাদি বাদ দিতে হবে ।
- ওজন কমানোর জন্য শাকসবজি , মাংস , ডিম ও অন্যান্য খাবার রান্নার সময় অবশ্যই কম তেল দিয়ে রান্না করে খেতে হবে । তেলের ব্যবহার কমাবে । অর্থাৎ কান্নার সময় খুব কম তেল দিয়ে কান্না করতে হবে। তেলে ভাজা সব ধরনের খাবার খাদ্য তলিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
- ক্ষুধা লাগলে বিভিন্ন তাজা , প্যাকেটজাত ও বেকারির খাবারের পরিবর্তে মৌসুমী ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
- সফট ড্রিংস ও বােতলজাত কেনা জুসের পরিবর্তে ডাবের পানি ও রসালাে ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে তেমনি বেশি পুষ্টি পাওয়া যাবে এবং শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
- মনে রাখতে হবে শরীরের বাড়তি ওজন কমানাের জন্য অবশ্যই নিয়মিত প্রতিদিন ব্যায়াম বা পরিশ্রম করতে হবে । পরিমিত আহারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম বা পরিশ্রম , নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন ও পর্যাপ্ত ঘুম এবং সর্বোপরি সার্বিক সচেতনতা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করবে।