বড় যদি হতে চাও ছোট হও তবে
মূলভাব : বিনয় এবং নম্রতা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। যারা অহঙ্কারকে বর্জন করতে পারে এবং বিনয়ী হতে পারে তারাই অপরের নিকট থেকে যথার্থ মর্যাদা লাভ করে এবং সুনাম ও সুযশ অর্জন করে।
সম্মান পেতে হলে অপরকে সম্মান করতে হবে। অপরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে বিবেচনা করা অর্থ নিজের বড় হওয়ার পথকে রুদ্ধ করা।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
মুলভাব : বিনয় বা নম্রতা মানব জীবনকে মহিমান্বিত করে তোলে। গর্ব ও অহঙ্কার বিসর্জিত বিনয়াবনত যে জীবন তা সকলের কাছে বিশেষভাবে সমাদর গাভ করে। এই সমাদরের ফলে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে বড় বলে বিবেচিত হয়।
ভাব-সম্প্রসারণ : মানুষের জীবনকে বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত করে বিকশিত করতে হয়। মানবিক গুণাবলি সহযোগেই মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সেজন্য মানুষকে সাধনা করতে হয় এবং সাধনার ফলে জীবনে মহত্ত্বের যথার্থ বিকাশ ঘটে। মানুষের মহৎ গুণাবলির মধ্যে বিনয় অন্যতম। বিনয় মানব জীবনকে মাধুর্যমণ্ডিত করে তোলে। বিনয় মানুষকে অপরের কাছে শ্রদ্ধান্বিত করে বড় করে। জীবনে অহঙ্কার থাকা মোটেই উচিত নয়। অহঙ্কারকে পতনের মূল বলে বিবেচনা করা হয়। অহঙ্কারী লোক মানুষের কাছে শ্রদ্ধা পায় না। গর্বিত মন উগ্র হয়ে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না। গর্ব ও অহঙ্কার মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। ফলে সমাজ জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। সেজন্য জীবন থেকে সচেতনভাবে অংকার দূর করে বিনয়ী হয়ে উঠতে হবে। বিনয়ী হলে সকলের মন জয় করা যায়। সকলের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করা চলে। এভাবে বিনয়ী মানুষ বড় বা মর্যাদাশীল বলে বিবেচিত হয়। লোকের কাছে বড় বলে বিবেচিত হওয়ার জন্য গুণবান মানুষকে ছোট বা নম্র হতে হয়। ছোট হয়ে তথা বিনয়ী হয়ে থাকলে মানুষ সকগের শ্রদ্ধা পায় এবং স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই বড় না হয়ে তথা অহঙ্কারী না হয়ে বিনয়ী জীবন যাপন করা আবশ্যক। মানুষের হূদরে মর্যাদাপূর্ণ আসন লাভ করতে পারলেই জীবন সার্থক হয়। এই বড় হওয়ার গৌরবের পেছনে আছে বিনয়ের অবদান। তাই মানুষকে বড় হিসেবে মর্যাদা লাভের জন্য ছোট বা বিনয়ী হওয়া দরকার।