ফিমেল মাইন্ড PDF (পুরুষের জন্য স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার সূত্র)
কয়েক পৃস্টা পড়ে দেখুন কেমন লাগে………….
সে আপনার কাছে চায়টা কী?
জীবনে বহুবার (অথবা নিদেনপক্ষে একবার হলেও তো) আপনি কোনো ইলেক্ট্রিক ডিভাইস নিশ্চয় কিনেছেন। তো, এ ধরনের ডিভাইস কিনলে প্রথমেই আপনি যে কাজটা করেন তা হলো, বাক্সটা খুলে এর ব্যাবহার-প্রণালিটা পড়ে নেন। আর এটা তো জানা কথা যে, কোনো কোম্পানি ব্যবহার-পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়া কোনো কিছু বাজারে ছাড়ে না। কোনো যন্ত্রপাতি কিনলে আমরা যে-কেউ এই কাজটা আগে করি। আর এটাই হচ্ছে যে-কোনো ডিভাইস ব্যবহার-করার সঠিক পদ্ধতি। এর কারণ একেবারেই স্পষ্ট এবং সাদামাটা। আমাদের আগে বুঝে নিতে হবে-এটা ব্যবহার করার সঠিক পদ্ধতিটা কী! আর যদি এটা ব্যবহার করার গোপন পদ্ধতিগুলো আমাদের জানা না থাকে, তাহলে ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা দুই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি-
প্রথমতঃ ডিভাইসটি থেকে আমরা সর্বোচ্চ উপকারটুকু লাভ করতে পারব না। কারণ, এর ব্যবহার-প্রক্রিয়ার অনেক কিছুই আমাদের অজানা, যা জানতে পারলে আরও অধিকতর পন্থায় উপকৃত হওয়া যেত।
দ্বিতীয়তঃ ডিভাইসটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ, ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ না করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়, যার কারণে তা এক সময় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আপনি হয়তো-বা অবাক হয়ে বলতে পারেন: আমাদের মতো মানুষদেরও আবার ইউজার-ম্যানুয়াল বা ব্যবহার-প্রণালি আছে নাকি, যার আলোকে
আমরা কী করব না করব তা ঠিক করব! আমি বলব হ্যাঁ, আছে। আর আমরা দৈনন্দিন জীবনে তারই আলোকে অন্যদের সাথে লেনদেন ও মেলামেশা করি। আর এই মেলামেশা বা মিথস্ক্রিয়ার নিয়মগুলো অনেকটাই আপনার সেই ব্যবহার-প্রণালির মতো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-
আমরা আজকাল হোয়াটস্যাপের মাধ্যমে একে-অপরের সাথে যোগাযোগ করি। ম্যাসেজ আদান-প্রদান করি। হয়তো-বা খেয়াল করবেন-আপনার এমন অনেক বন্ধু আছেন যাঁরা ম্যাসেজের উত্তর দিতে দেরি করলে খুব বিরক্ত হন। আবার অনেকে এমন আছেন যাঁরা এটাকে তেমন কিছু মনে করেন না। যাঁরা বিরক্ত হন তাঁদের কাছে হয়তো মাঝেমধ্যে আপনাকে বকাঝকাও খেতে হয়। এ ধরনের বকাঝকা খেয়ে আপনি হয়তো-বা পরের বার থেকে সাবধানতার সাথে দ্রুত তাঁর ম্যাসেজের উত্তর দিতে তৎপর থাকেন। তেমনি জীবন-চলার পথে অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা আপনাকে সাধারণ কোনোকিছু পড়ার জন্য পাঠান, তবে তার প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় থাকেন না। আমি নিজেও আমার ভক্তদের অনেক ম্যাসেজ পাঠাই যার জবাবের অপেক্ষায় থাকি না। তবে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা কোনো ম্যাসেজ পাঠালে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে অপেক্ষায় থাকেন। সুন্দর ও ভালো কোনো রিপ্লাই না পেলে তাঁরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। তারপর কোনো একদিন সরাসরি দেখা হলে তো কথাই নেই! তাঁর ম্যাসেজের কোনো রিপ্লাই না দেওয়ার কারণে অনেক বকাঝকা করবেন। পরের বার থেকে আপনি সাবধান। তাঁর কাছ থেকে ম্যাসেজ আসতেই আপনি সব ফেলে দিয়ে লেখেন: ‘ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্টের জন্য!’ মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে না পড়েই এ ধরনের মন্তব্য লিখে পাঠিয়ে দেন। জান ও মান বাঁচানোর তাগিদে! এই যে তাঁর সাথে আপনার ব্যবহার, এটা কিন্তু আপনি করছেন একটা ব্যবহার-প্রণালির আলোকে। এটা হয়তো আপনি দেখছেন না। তবে তা আপনার মাথার অদৃশ্য কোনো জায়গায় বিদ্যমান। আপনার অভিজ্ঞতা আপনাকে বলে দেয়-এ লোকটা কমেন্ট না করলে খুব রাগ করেন। তবে আপনার মাথায় এটাও আছে অন্য অনেক বন্ধু ম্যাসেজের জবাব না দিলে সেটাকে গুরুতর কোনো বিষয় মনে করেন না।
এ ধরনের ব্যবহার-প্রণালির আরেকটা উদাহরণ আমি দিতে পারি। মনে করুন, কোনো কোম্পানি, বিদ্যালয় কিংবা অফিসে আপনি কারো সাথে একটা সময় ছিলেন। তারপর আলাদা হয়ে গেলেন। তারপর আপনি নতুন কোনো অফিসে যোগ দিলেন। তার কয়েক বছর পর আপনার সেই বন্ধুও তার আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থল হিসেবে আপনার অফিসেই যোগ দিল। পুরোনো বন্ধু হবার খাতিরে নতুন অফিসে যাতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সেজন্য আপনি তাকে অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করলেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে আপনি তাকে কাজের ধরন সম্বন্ধে ধারণা দিলেন। তারপর সহকর্মীদের ব্যাপারে। তারপর না-হয় বসের ব্যাপারে। প্রয়োজনে তার ব্যাপারে কিংবা অন্য কোনো সহকর্মীর ব্যাপারে সাবধান থাকতে বলে দিলেন। বলে দিলেন অমুক সহকর্মীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা যায়, যেহেতু লোকটা ভালো। আর যে-কোনো কাজে তার সাহায্য সে চাইতে পারে। এভাবে নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে আপনি একটা নির্দেশিকা তাকে দিলেন। এটা তার জন্য মানুষের সাথে কাজ করার ব্যবহার-প্রণালি। আপনি বুঝতে পেরেছেন আমরা যদি অন্যদের মন-মানসিকতা বুঝতে পারি, তাহলে তাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করা সহজ হবে। এর দ্বারা আমরা উপকার আর শান্তি-দুটোই অর্জন করতে পারব।
সংসার-জীবনে বিদ্যমান অশান্তিগুলোর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, অধিকাংশ পুরুষই জানে না, ঘরের নারীদের সাথে কীরূপ আচরণ করতে হয়। এ ব্যাপারে কোনো ধারণা বা ব্যবহার-প্রণালি তাদের হাতে নেই। নারীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। তারাও জানে না স্বামীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয়। তাদের কাছেও নেই এ সম্পর্কিত কোনো ব্যবহার-প্রণালি। পুরুষরা মনে করে, তার যা পছন্দ, সঙ্গিনী নারীটিরও তাই পছন্দ। যা তার কাছে গৌণ, নারীর কাছেও তা গৌণ। এর বিপরীতে নারীদের অবস্থাও একই। তারা মনে করে, যেটা তাদের কাছে গুরুত্ববহ সেটা পুরুষদের কাছেও তাই। তার ভাবাবেগ আর পুরুষের ভাবাবেগে কোনো পার্থক্য নেই, থাকতে পারে না। কারণ, বাহ্যত দেখা যায় পুরুষের ভেতর-জগৎ নারীদের ভেতরের জগৎ থেকে একেবারেই আলাদা। যেহেতু এ বইয়ের মূল লক্ষ্যবস্তু আপনি, তাই নারীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে সে-ব্যাপারে আপনাকে একটি নির্দেশিকা দিয়ে দিচ্ছি। যেটা আপনার জন্য হতে পারে সংসার-জীবনের উত্তম ব্যবহার-প্রণালি।
১. তাকে নিয়ে কখনো লজ্জিত হবেন না
একজন স্ত্রী এটাই দেখতে পছন্দ করে যে, তার স্বামী তাকে বিয়ে করে পস্তাচ্ছে না। সে যদি এমন কোনো আচরণ আপনার সাথে করে যার জন্য আপনাকে কোনো বিপদে বা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তাহলে এ কথা আপনাকে চিৎকার করে না বললেও চলবে, যে, তোমার জন্যই এই বিপদে পড়লাম। এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলোর মাধ্যমে স্বামী বুঝিয়ে দিতে পারে সে স্ত্রীর কোনো আচরণে বিপদে আছে বা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছে। সে যদি অযাচিত কোনো আচরণ করে, তাহলে ইশারা-ইঙ্গিতেও আপনি তাকে তার এই আচরণের নেতিবাচকতার ব্যাপারে অবগত করতে পারেন। ধরুন, এটা বুঝাবার জন্য আপনার বন্ধুমহলে তাকে নিয়ে গেলেন না। কিংবা অপনার পরিবারের সদস্যদের সামনে তার সাথে শীতল আচরণ করলেন। তখন সে ঠিকই টের পাবে আপনি কোনো কারণে তাকে নিয়ে বিব্রত হয়েছেন। উপলব্ধি করতে পারবে তার আচরণ আপনাকে বিপদে ফেলেছে বা কষ্ট দিয়েছে!
এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। তাই-বলে তাকে শায়েস্তা করতে তার জন্য সবার সামনে ভরা মজলিসে কবিতা রচনা করে তা শোনাতে বলছি না। এই সম্পর্ক কতটা ভালো তা দেখাবার জন্য সবার সামনে তাকে জড়িয়ে ধরতেও বলছি না। আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন আমি আপনাকে কী বোঝাতে চাইছি। তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাকে শুধু এড়িয়ে যাবেন। এরকম কোনো আসরে তাকে অগ্রাহ্য করলেই সে ব্যাপারটা বুঝে নেবে। তখনই তার বুঝে আসবে স্ত্রী হিসেবে সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছে!
আর তার উপর যদি সন্তুষ্ট থাকেন তা বোঝাবার জন্য আপনি যে-কোনো আসরে মানুষের সামনে এমন ছোটখাটো আচরণ করতে পারেন যার মাধ্যমে সে বুঝে নেবে যে, আপনি তাকে পেয়ে ধন্য।
সবার সামনে তার রান্নার প্রশংসা করুন, বলুন তার রান্না খুব সুস্বাদু।
তাদেরকে বলে দিন যে, সে আপনার বাচ্চাদের হোমওয়ার্কে সহযোগিতা করে বলে আপনি আপনার কাজে বেশি সময় দিতে পারছেন।
আপনাকে দেওয়া তার কোনো উপহারের বর্ণনা দিন সবার সামনে।
আপনার এই স্মৃতিচারণেই তার বুঝে আসবে তার প্রতি আপনি কতটা কৃতজ্ঞ। যদিও বাস্তবে দেখা গেল এই উপহার আপনার পকেটের টাকা দিয়েই কেনা। আর সে যদি আপনাকে কোনো পাঞ্জাবি উপহার দিয়ে থাকে, তাহলে পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে আপনার বোনকে জিজ্ঞেস করতে পারেন পাঞ্জাবিটার ব্যাপারে তার মত কী। তারপর আপনি স্ত্রীর রুচির প্রশংসা করে বলবেন আপনার জন্য মানানসই জামাকাপড়ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনায় সে খুব দক্ষ।
সে যখন কোনো বৈঠকে থাকবে তখন সবার সামনে তার পরিবারের একটু প্রশংসা করুন। তখন তার মনে হবে-তার সবকিছু নিয়ে আপনি বেশ গর্বিত!
আমরা সবাই যে কাজ করি, তার প্রশংসা অন্যের মুখে শুনতে খুব পছন্দ করি। এ প্রসঙ্গে এই গল্পটি একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন-
১২ বছরের এক ছেলে একদিন দোকানে গেল ফোনে কথা বলার জন্য। রিসিভার উঠিয়ে নম্বর ডায়াল করে কথা শুরু করে দিল।
এই দৃশ্যটা দেখে দোকানদারের খুব ভালো লাগল। ছেলেটা টের না-পায়-মতো অবস্থান থেকে মনোযোগ দিয়ে তার কথোপকথন শুনতে লাগল।
‘ম্যাম, আমি কি আপনার বাগানে একটু ঘাস কাটার কাজ পেতে পারি?’
‘ধন্যবাদ বাবা, এ কাজের জন্য আমার লোক আছে।’
‘ম্যাম, আমি অর্ধেক বেতন নেব!’
‘ধন্যবাদ, এখন যে লোকটা আছে তার কাজেই আমি সন্তুষ্ট। তাকে পাল্টানোর কোনো কারণ দেখছি না।’
‘আমি আপনার বারান্দা আর বাড়ির সামনের রাস্তাও পরিষ্কার করে দেব। আর আমি কাজে হাত দিলে বাগানটা এখন যেমন আছে তার চাইতেও সুন্দর দেখাবে।’
‘বললাম তো, এখন যে আছে তার কাজেই আমি সন্তুষ্ট!’
এবার ছেলেটা রিসিভার রেখে দিল। তবে ব্যর্থ হলেও তার মুখে হাসি লেগেই থাকল। দোকানদার তা দেখে বলল, ‘তোমার কাজ করার আগ্রহ আর আত্মবিশ্বাস দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। আচ্ছা, এক কাজ করলে হয় না, তুমি আমার দোকানে কাজ করলে? বাসায় বাসায় মাল পার্সেল করলে? তবে বেতন কিন্তু ওই মহিলার কাছে যা চেয়েছ, তাই পাবে!’
‘ধন্যবাদ জনাব আপনাকে। আমি শুধু আমার কাজের মানের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে ফোনটা করেছি। আমিই আসলে ম্যামের বাগানে কাজ করি!’
এবার একটু কল্পনা করে দেখুন, রিসিভার রাখার পর সে কতটা আত্মতৃ প্তি নিয়ে হাসছিল। এর বিপরীতে কল্পনা করুন তো, তাকে যদি বলা হতো, মহিলা তার কাজে খুশি না, তাহলে তার মুখের অবস্থা কী হতো! এই পার্থক্যটাই আমাদের কল্পনা করা উচিত আমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে। যদি সে উপলব্ধি করতে পারে-তাকে নিয়ে আপনি গর্বিত আর যদি সে উপলব্ধি করতে পারে তাকে নিয়ে আপনি লজ্জিত, তাহলে অনুভূতির পার্থক্যটা কেমন হতে পারে?
২. মানুষের সামনে তার সমালোচনা করবেন না
এখন যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি, সেটার সাথে আগেরটার হয়তো তেমন পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে না, কিছুটা পার্থক্য যে আছে তা এখনই বুঝতে পারবেন। তা না হলে আমি আলাদা পয়েন্ট আকারে আলোচনা করতে যাচ্ছি কেন!
আগের পয়েন্টে আমরা মানুষের সামনে আপনাকে বিব্রত না হবার পরামর্শ দিয়েছিলাম। অনেক সময় দেখা যায় স্বামী খুব শান্তিপূর্ণ সামাজিক জীবন যাপন করছে। স্ত্রীকে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় নিয়ে যায়, তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার বিবাহিত বন্ধুদের বাসায়ও যায় তাকে নিয়ে। তাকে বুঝতেই দেয় না তার উপর সে সামান্য অতিষ্ঠ। সে যে তার জীবনের একটা আপদ এটা তো বুঝতে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না!
তবে তার এ সামাজিকতার মধ্যে কী যেন একটা নেই। একটু খুঁজলে দেখা যাবে কোথাও একটা ব্যথা লুকিয়ে আছে। সে সবার সামনে স্ত্রীর অনেক ভুল শুধরে দেয় যা সে বাসায় গিয়ে একান্তে বোঝালেই পারত।
আমরা যেমনটা বলে থাকি-মানুষের সামনে উপদেশ দেওয়া মানে বেইজ্জত করা, তাহলে এবার ভেবে দেখুন, ব্যাপারটা কত মন্দ হতে পারে-যদি তা হয় সবার সামনে তার সমালোচনা। গোপনে হলে উপদেশ কেন আমরা সমালোচনাও মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে তা হতে হবে সুন্দরতম উপায়ে। পক্ষান্তরে সুন্দরভাবে হলেও সবার সামনে সমালোচনা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না!
আমরা যদি চাই কেউ আমাদের সমালোচনা মেনে নিক, তাহলে তা হতে হবে একান্তে এবং যে সুন্দর উপায়ের কথা বলেছি সে উপায়ে।
মহাবিশ্ব পানে তাকিয়ে দেখুন না! সবকিছু কেমন সময়ানুবর্তিতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। সূর্য নির্দিষ্ট সময়ে ওঠে আর অস্ত যায়। ঋতু কখনো আগে আসে না আবার দেরিতেও যায় না। ফুল বসন্তে ফোটে। ফল গ্রীষ্মে পাকে। চাষীরা নির্দিষ্ট সময়ে বীজ বপন করেন তাঁদের ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যে। ফসল কাটার মৌসুম না এলে তাঁদের কখনো ফসল ঘরে তুলতে দেখা যায় না। আল্লাহ তাঁর মহাবিশ্ব পরিচালনা করে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট সময় ধরে। এই যেমন চাঁদ-সূর্য-গ্রহরাজি। আর তাঁর বান্দারাও অনেক কিছু পরিচালনা করছে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে। ক্লাস, অফিস-সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে। যদি এসবের মধ্যে সময়ের হেরফের হয় তাহলে কী ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে তা আর কল্পনা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আল্লাহ যখন হুকুম করবেন তখনই এগুলো সময়ানুবর্তিতা হারিয়ে ফেলবে। আর তখন দেখা দেবে মহাপ্রলয়, যা ধ্বংসেরই নামান্তর!
আমরা যদি কাউকে অসময়ে ওয়াজ-নসীহত শুরু করে দিই, তবে তা হবে অনেকটা সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠার মতো, অসময়ে কোনো মৌসুমের আগমন কিংবা ফসলের বীজ বপন করার মতো ব্যর্থ প্রয়াস। হবে ফল পাকার আগেই তা পেড়ে ফেলার মতো ব্যাপার। এ সবই আমাদের অকল্যাণ আর ধ্বংসেরই নামান্তর।
মনে করুন, আপনার পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকে একদিন দাওয়াত দিলেন আপনার বাসায়। খেতে গিয়ে দেখলেন-একটা খাবারে লবণ একটু বেশি হয়ে গেছে। তখন সবার সামনেই তাকে বলে দিলেন, ‘তুমি দেখি লবণ কতটুকু হবে রান্নার সময় সেটাও খেয়াল করো না!’
নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন, এ ধরনের সমালোচনা অপমানজনক। এতে তার মনোকষ্ট বাড়বে। মনে আঘাত লাগবে, যে আঘাতের ক্ষত সহজে শোকাবার নয়। প্রথমত এ ধরনের সমালোচনা তার জন্য এক ধরনের মানহানি। মানুষ তো আসলে মানসম্মান নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়। আর মানুষের সকল ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাও কিন্তু এই মানসম্মানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। আমরা তো শুধু রক্তমাংসে গড়া প্রাণী নই; আবেগ, অনুভূতি ও আত্মসম্মান দিয়েই আমরা সমাজে মানুষ হিসেবে চলি। আপনার এই উন্মুক্ত সমালোচনার পরও যদি সে চুপ থাকে তাহলে বুঝতে হবে সে ভেতরে ভেতরে অনেক কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে!
তাহলে সমস্যার সমাধান করবেন কীভাবে? এ ক্ষেত্রে আমরা ইতিবাচক পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারি।
খাবারের কোনো এক পদে লবণটা একটু বেশি হয়ে গেছে, আপনি দেখলেন, কিন্তু কিছু বললেন না, খাওয়া-দাওয়া ও আলাপচারিতা স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে গেলেন। খাবার-পর্ব শেষ হলে একে একে মেহমানদের বিদায় দিলেন। এখন বাসায় আছেন আপনারা শুধু দুজন। তাকে বললেন, ‘যাক, অনেক ধন্যবাদ! কষ্ট করে এতগুলো মানুষের মেহমানদারির করলে। আসলে তোমার রান্না খুব ভালো। তাছাড়া তুমি একজন আদর্শ গিন্নি, যাকে নিয়ে আমি সবার সামনে গর্ব করতে পারি। কিন্তু হয়েছে কী, আজকে দেখলাম ওই আইটেমটাতে লবণ একটু বেশি হয়ে গেছে। সমস্যা নেই, এমন হতেই পারে। তবে আগামীতে খেয়াল রেখো। কারণ, দেখো, তুমি একটা কিছু রান্না করলে আর সেটা খেয়ে কেউ যদি মজা না পায় তাহলে আমারই খারাপ লাগে। আমি তো চাই তোমার সবকিছু হবে নিখুঁত। আর তুমি হবে অসাধারণ!’
এই যে এই কথাগুলো, এগুলোকে কোনোভাবেই তার সমালোচনা বা তার জন্য উপদেশ বলা যাবে না। এ কথাগুলো বলার মাধ্যমে মূলত আপনি তাকে নিয়ে আকাশে উড়ছেন। খাবার তৈরি করতে তার যে-কষ্ট হয়েছে, আপনার কথায় আকাশে উড়ে সে সব কষ্ট বেমালুম ভুলে গেছে।
এ পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি দুটো বিষয় বজায় রাখলেন। একটি হচ্ছে উপযুক্ত সময় আরেকটি-কথা বলার পদ্ধতি।
এমন এক সময়ে আপনি তাকে কথাগুলো বলছেন, যেখানে আপনাদের দুজনের মাঝে তৃতীয় কেউ নেই। এমন সময় ও পরিবেশে স্বামীর কাছ থেকে যে-কোনো উপদেশ, যেকোনো সমালোচনা একজন স্ত্রী সানন্দে মেনে নিতে পারে। কেননা, আপনি যা কিছুই বলছেন, তা একান্তই আপনাদের দুজনের মধ্যে সীমিত।
এমনিভাবে আপনার বলার ভঙিটাও ছিল বেশ আকর্ষণীয়। মাঝেমধ্যে আমরা এমন অনেক কথা বলি যে কথায় অন্যরা খুব একটা সাড়া দেয় না। সত্য কথা হলেও তার মূল্যায়ন করতে চায় না। এ ছাড়া আমরা যদি কোনো ভালো কথাও কর্কশ ভাষায় বলি, তাহলে কেউ সহজে তা মেনে নিতে চায় না। তাই, কথা বলার ক্ষেত্রে প্রথমে বলবার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, উপযুক্ত পরিবেশ ও সময়ে বলতে হবে; পাশাপাশি, কথা বলার ভঙ্গি ও শৈলীর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, উপযুক্ত সময় ও পরিবেশে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে যদি কথা বলতে পারেন, সুন্দর শৈলীতে যদি কথা উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে সেই কথা শ্রোতারা খুব সহজেই গ্রহণ করে। অন্যথা হলে আপনার কথার কোনো প্রভাবই হয়তো শ্রোতার কাছে থাকবে না। কেননা, কথা বলার ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয় অতি গুরুত্বপূর্ণ, এগুলোকে অবহেলা করলে হবে না।
এ বিষয়ে একটা গল্প বলা যাক, গল্পটি নিয়ে ভাবতে পারেন-
এক রাজা একদিন স্বপ্নে দেখল তার সবগুলো দাঁত পড়ে গেছে। স্বপ্ন দেখে তার মেজায গেল বিগড়ে। সভাসদকে বলে দিল এই স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা করতে পারবে এমন একজনকে খুঁজে বের করতে। এমন একজনকে পাওয়া গেলে সে সোজা বলে দিল: ‘আপনার সকল আত্মীয়-স্বজন আপনার চোখের সামনেই একে একে মৃত্যুবরণ করবে।’
এই ব্যাখ্যা শুনে রাজার মেজায আরো চরমে উঠল। বলল লোকটাকে জেলে পুরতে। তারপর একান্তে ভাবতে লাগল স্বপ্নটা ছিল ভয়ংকর। আর তার ব্যাখ্যা তো রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করে দিয়েছে। সে অন্য আরেকজন ব্যাখ্যাকারের তালাশ চাইল।
নিয়ে আসা হলো আরেকজন ব্যাখ্যাকার। রাজা তাকে স্বপ্নের বর্ণনা দিল। স্বপ্ন শুনে ব্যাখ্যাকার বলল: ‘এই স্বপ্ন খুবই ভয়ংকর, রাজা মহাশয়! একে একে আপনার সকল আত্মীয়-স্বজন আপনার চোখের সামনেই মারা যাবে।’
দ্বিতীয় ব্যাখ্যাকারের উপরও রাজা খেপে গেল। তাকেও বন্দী করতে আদেশ করল।
দেরি না করে তৃতীয় আরেকজন ব্যাখ্যাকারকে ডাকতে বলল।
তৃতীয়জন আসার পর তাকে রাজা স্বপ্নের বর্ণনা দিল। ব্যাখ্যাকার মুচকি হেসে বলল: ‘রাজা মহাশয়, আপনি আপনার সকল আত্মীয়-স্বজন থেকে বেশিদিন বাঁচবেন।’
এই তাবীরে রাজা বেশ খুশি হলেন। ব্যাখ্যাকারকে অনেক হাদিয়া-উপহার দিয়ে বিদায় করলেন।
আমরা যদি একটু লক্ষ করি, তাহলে দেখব-তিন ব্যাখ্যাকারের ব্যাখ্যার বিষয়বস্তু কিন্তু একই। তৃতীয় জন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তার অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, রাজার সামনে তার সকল আত্মীয়-স্বজন মারা যাবে। আর এমনটা হলে স্বাভাবিকভাবেই সে তাদের সবার পরে মারা যাবে। তৃ তীয়জন এই বিষয়টা ফোকাসে এনে ব্যাখ্যাটা একটু ঘুরিয়ে উপস্থাপন করেছে। ফলে তার উপস্থাপনার এই ভিন্নধর্মিতার কারণে সে রাজার বিরাগভাজন হওয়া থেকে বেঁচে গেছে।
এ গল্প থেকে আমাদের বুঝতে হবে, মন্দ অনেক কথাই ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা যায়। পক্ষান্তরে সুন্দর কোনো বিষয়বস্তুও অনেকে না বুঝে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। তাই আপনাকে বেছে নিতে হবে উপযুক্ত সময় এবং সুন্দর ভাষাশৈলি।
৩. শুধু নিজের মাথা নাড়াবেন না
আমরা আগেই বলেছি, স্ত্রীরা কোনো ব্যাপারে অভিযোগ করলে এর অর্থ এটা নয় যে, সে এ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান চায়। সেও ভালো করে জানে-আপনার আসলে সমাধান করার ক্ষমতা নাই। অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রী আসলে নিজেও তার সমাধান খুব একটা চায় না। সে যখন আপনাকে বলবে শপিংয়ে গিয়ে একটা জামা তার পছন্দ হয়েছে, কিন্তু আপনি গিয়ে জামাটি আর পেলেন না, একই ডিজাইন ও রঙয়ের অন্য কোনো জামাও পেলেন না, তখন সে অবশ্যই আপনাকে এটা বলবে না এবং চাইবেও না যে একই ডিজাইনের জামা আপনি তাকে সেলাই করে দিন। বরং তার চাওয়া তো কেবল এটাই, আপনি তার প্রতি একটু সহানুভূতি প্রকাশ করুন!
অনেক স্বামী মনে করে স্ত্রী যখন কোনো বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তখন চুপচাপ তা শুনে যাওয়াটাই যথেষ্ট এবং এতে নীরবতা পালনই উত্তম।
এ সময় অনেকেই বলে থাকেন: ‘তুমি যা যা বলছ, সব শুনছি। যা ইচ্ছা বলে যেতে থাক।’ এ ধরনের স্বামীদের মতে স্ত্রীর এসব কথাবার্তা নীরবে শুনে যাওয়াই উত্তম।
প্রিয় পাঠক, চুপচাপ শুনে যাওয়াটা কখনও কখনও নেতিবাচকতাও প্রমাণ করে, এসব ক্ষেত্রে স্ত্রীরা আপনার নীরবতাকে বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করে।
অনেক সময় যখন স্ত্রী কোনো দুঃখের কথা শোনায়, তখন স্বামী শুধু মাথা নাড়ায়। মাথা নাড়িয়ে বোঝাতে চায়: ‘হ্যাঁ, আমি তোমার সব কথাই শুনছি।’ কিন্তু স্ত্রীরা এটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করে এটা বুঝে নেয় যে, স্বামী আসলে বলতে চাইছে- ‘তোমার কথা শেষ হবে কখন!’
আবার অনেক স্বামী এমন আছে, স্ত্রী কোনো কষ্টের কাহিনী বর্ণনা করলে একটু পর পরই ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ’ বলে তাল মেলাতে থাকে। স্বাভাবিকভাবে বিবেচনা করলে আমাদের মনে হবে স্বামী যেন বলতে চাইছে-‘হ্যাঁ বলতে থাকো, আমি শুনছি’। কিন্তু স্ত্রীরা এ ধরনের শুনতে থাকাটাকেও নেতিবাচকভাবে দেখে। তারা মনে করে স্বামী এ ধরনের আচরণ দ্বারা আসলে বোঝাতে চাইছে: ‘তোমার এসব শ্লোক বলা এখনো শেষ হয়নি!’
অনেক সময় মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সেটা হয়ে যায় নেতিবাচক শোনা। বস্তুত এ ধরনের মুহূর্তে নারীরা চায় তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হোক। কিন্তু আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্যও চুপচাপ থাকেন, তবে তারা এটাকে নেতিবাচকভাবে নেবে, মনে করবে আসলে কিন্তু আপনি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে শুনছেন না, তার কথা শুনতে শুনতে ভেতরে ভেতরে বেশ বিরক্তিবোধ করছেন, শুধুমাত্র এই অপেক্ষায় আছেন কখন তার প্যানপ্যানানি শেষ হবে।
শুধু শুনলেই হবে না। তারা চায় আপনি তার কথা ইতিবাচকভাবে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
যখন স্ত্রী আপনার সামনে এমন কোনো কথা ওঠাবে যা আপনি শুনতে আগ্রহী না, তখনও আপনাকে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে যাতে সে তার কথা চালিয়ে যেতে উৎসাহী হয়। সে তো আসলে তেমন কিছু চায় না, চায় শুধু আপনার একটু সহানুভূতি। এটা করলেই সে মনে করবে আপনি তার বুক থেকে বিরাট এক পাথর সরাতে তাকে সহযোগিতা করলেন। আপনার মনে হতে পারে সে যে বিষয়ে কথা উঠিয়েছে তা একেবারেই তুচ্ছ। শুধু আপনি কেন, সবার কাছে তা মনে হতে পারে। তবে আমরা সবাই মিলেও এই বাস্তবতাটায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারব না যে আমাদের চোখের এই তুচ্ছ বিষয়টাও তার কাছে অনেক বড় সমস্যা কিংবা গুরুত্ববহ কিছু একটা।
তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি কথার ফাঁকে ফাঁকে আপনাকে উপযোগী টুকটাক মন্তব্য করতে হবে। যেমন: ঠিক বলেছ/ সব ঠিক হয়ে যাবে/ আমি দেখি এই সমস্যার একটা সমাধান বের করা যায় কিনা/ কী বললে! তুমি তো আমার অনেক প্রিয়! আমিও এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।
স্পঞ্জ যেমন পানিকে শুষে নেয়, আপনার এ ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখবেন ঠিক সেভাবে তার মনের সব ক্ষোভ শুষে নিয়েছে। তখন সে মনে করবে আপনি তার কথাকে পাত্তা দিচ্ছেন আর সে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসলে আপনি বিরক্ত হন না।
আপনি শুধু শুনে গেলেই হবে না। আপনাকে বুঝতে হবে যে, শোনা মানেই চুপ থাকা নয়। নীরবতা তার কাছে এক ধরনের নেতিবাচক শোনার নাটক যা এই ইঙ্গিত বহন করে যে আপনার আর তার মাঝে আসলে মানসিক দূরত্ব রয়েছে। অথবা মনে করবে বিপদে আসলে আপনি তার সাথে নেই। তাই আপনাকে ইতিবাচকভাবে শুনতে হবে। মাঝে-মধ্যে দু-একটা মন্তব্য করবেন, কিংবা এমন কিছু বলবেন যাতে সে নিজেই তাড়াতাড়ি কথা শেষ করতে আগ্রহী হয়। এ পন্থায় তার সমস্যার ফিরিস্তি শুনলেই যে আপনাকে এর সমাধানে নেমে যেতে হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তা আসলে কোনো সমস্যাই না। তবে হয়তো তা কোনো কারণে তার বিরক্তিও উদ্রেক ঘটিয়েছে। তাই কেউ যদি তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে সেটাই হবে তার জন্য সমস্যার সমাধান। এই যেমন বাচ্চাদের নিয়ে তার বিরক্তি, এখানে সে সমাধান চায় না, চায় সহানুভূতি।
মনে করুন, সে আপনাকে শোনাচ্ছে-বাচ্চারা তাদের রুমগুলো গুছিয়ে রাখে না। কোনো কিছু ব্যবহার করে তা আবার জায়গামতো রাখে না। এরকম আগোছালো কেন তারা! আর আপনি জানেন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক। আমরাও ছোট বেলায় এমন ছিলাম। এমন অনেক বাচ্চা প্রায় দেখতে পাবেন, যাদের রুমে ঢুকে মনে হবে এ যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র। একজন পুরুষ হিসেবে আপনি তা দেখে তাদেরকে শুধুমাত্র একটু গুছিয়ে রাখতে বলবেন। এ রকম হয়তো অনেক বার করেছেন। কিন্তু এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকলে তো হচ্ছে না। তাদেরকে বিষয়টা বুঝিয়ে আবার তা তারা গুছিয়ে রাখছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। ঠিক তেমনি সেও চায় আপনি তার বিষয়গুলো খেয়াল করুন এবং প্রয়োজন হলে সমস্যার সমাধানে তাকে সহযোগিতাও করুন।
৪. তার বিশেষ মুহূর্তগুলো ভুলবেন না
প্রতিজন স্ত্রীর বিশেষ দিনগুলো তার কাছে যে কোনো রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-দিবসের মতো। তাই এসকল দিবস এলে আপনাকে একটু সাবধান থ াকতে হবে। তবে আমাদের কাছে এ ধরনের দিবসগুলো ঘটা করে পালন করার কোনো মানে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তা নাজায়িযও বলে জানি। তবে তাদের এই ব্যাপারে আমাদের একটু মনোযোগ দেওয়াটাই কাম্য।
যেমন উদযাপন করা ঠিক না হলেও তার জন্মের দিন ভুলে যাওয়াটা আপনার জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে নিয়ে আসতে পারে। আর যদি এ-উপলক্ষে কোনো উপহার না দেন, তাহলেও তার মনে ক্ষোভের সঞ্চার হবে। তার জন্ম-তারিখ ভুলে যাওয়া এবং এটাকে গুরুত্ব না দেওয়াটা তার জন্য বেশ বিরক্তি ও ক্ষোভের বিষয়। এখানে কিন্তু উপহারটা মুখ্য নয়। তার জন্য এটাই বড় উপহার হবে-আপনি যদি সেদিন তাকে অবাক করে দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে আপনার কিন্ত তার জন্ম-তারিখ মনে আছে, বলেন, ‘তোমার জন্মদিন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বার্থডে পালন করা জায়িয নয়। তবে আপনি যদি এ দিনে সামান্য একটু কথা ও উপহার দিয়ে প্রথম প্রথম তার সাথে এ ব্যাপারে কোনো ভাববিনিময় না করেন, তাহলে আপনার এই আচরণের যে অনুবাদ সে করবে সেটা হচ্ছে: ‘আমি জানিও না, গুরুত্বও দিই না।’
তাদের কাছে বিবাহ-বার্ষিকীটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিবস। এটা তাদের কাছে একটি খুশির স্মৃতি। তারা চায়-এ দিনটায় যেন স্বামী নতুন করে ভালোবাসার ‘বাইআত’ করে। রাজা-বাদশাহরা যেমন সিংহাসনারোহণের দিনটা উদযাপন করেন আমলা আর মন্ত্রীদের আনুগত্যের বাইআত গ্রহণ করতে, তারাও এ দিনটাতে এমন একটা কিছু আশা করে।
পুরুষদের কাছে বিয়ে তো বিয়েই, এটাকে আবার নতুন করে উদযাপন করার কী আছে? তাছাড়া শরীয়তের চিন্তা করলেও তো এর কোনো প্রয়োজন দেখা যায় না। আকদের মাধ্যমেই তো তার সাথে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। এটা নতুন করে নবায়ন করার প্রয়োজনটা কী! তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রথমেই তাকে এটা বুঝিয়ে রাজি করানো যাবে না। তাদের দাবি হলো এ দিবসটা যেন দেশের মাটি থেকে দখলদার বাহিনীকে বিদায় করার দিবস!
সুতরাং কোনো পুরুষ যদি এই বিবাহবার্ষিকী পালন না করে, তার অর্থ এই নয় যে, তাদের কাছে দিনটার কোনো গুরুত্বই নেই। তবে পুরুষরা এ-সকল দিবসকে সাধারণত নিজের আবেগ-অনুভূতির সাথে খুব একটা বেশি জড়াতে দেয় না। পক্ষান্তরে এসব দিবসের সাথে স্ত্রীদের অনেক আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে থাকে।
বস্তুত স্ত্রীদের এ-বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত যে, পুরুষরা দিবসকেন্দ্রিক আদিখ্যেতা নিয়ে তেমন একটা বসে থাকে না, এগুলো তাদের কাছে অতটা গুরুত্বও বহন করে না। দেখা যায় অধিকাংশ স্বামীই স্ত্রীর জন্ম-তারিখ কিংবা বিবাহবার্ষিকী মনেই রাখে না। যদি কেউ মনে রাখে, তাও এই ভয়ে যে, এ ব্যাপারে অবহেলা করলে বউ খুব বিরক্ত হবে।
জেনে রাখা ভালো-দিবসগুলো মনে রাখা না-রাখার সঙ্গে ভালোবাসার খুব কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে শুধুমাত্র একটু গুরুত্ব দেওয়া না-দেওয়ার প্রশ্ন আসে শুধু। অন্য অর্থে বলা যায়, পুরুষরা এগুলোকে পাত্তা না দিলেও বউরা এসব দিবস খুব মনে রাখে, মনে রাখে বেশ গুরুত্বের সাথে!
দিবসগুলো তারা মনে রাখে কেবল স্বামীকে ভালোবাসে বলেই, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। নারীরা মূলত যেকোনো জিনিস নিয়ে চিন্তাফিকির করতে বসলে জিনিসটির প্রভাব ও গুরুত্ব নিয়েও ভাবে। কিন্তু পুরুষরা নির্দিষ্ট জিনিসটা নিয়েই চিন্তা করতে অভ্যস্ত।
মন-মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যদি মতপার্থক্য দেখা যায়, তাহলে তাহলে একে-অন্যের উপর নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। এখানে মতপার্থক্যের ভিন্নতার চাইতে প্রকৃতিগত তারতম্যের গুরুত্ব বেশি। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই সমস্যার সমাধান করা যায়।
তাই স্বামী হিসেবে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে মানসিক দিক বিবেচনা না করে স্বভাব বা প্রকৃতিগত বিষয়টার দিকে খেয়াল দিতে হবে। তাই তার স্বভাবজাত বৈশিষ্টের দিকে তাকিয়ে হলেও আপাতত এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে একটু গুরুত্ব দিতে হবে। এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমাদের কাছে গুরুত্ববহ না হলেও অপর সাথীর অনুভূতির দিকে লক্ষ করে গুরুত্ব দিতে হয়।
আর স্ত্রীদেরও উচিত, পুরুষদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে নজর দেয়া। এমনটা নয় যে আপনাকে পাত্তা দেয় না বলেই আপনার বিশেষ দিনের কথা তার মনে নেই। মনে রাখতে হবে, এটা এ জন্য যে তার কাছে ওই দিবসগুলোর চেয়ে আপনার ভালো-মন্দই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কীভাবে ভালো থাকবেন সুখে থাকবেন সুস্থ থাকবেন, স্বামীর কাছে এটাই মুখ্য। আপনার সঙ্গে যে পবিত্র সম্পর্ক তার, সেই তুলনায় দিবসের আদিখ্যেতা অতি গৌণ; ক্ষেত্র-বিশেষে নাজায়িযও।
স্ত্রীদের সমস্যা হলো তারা এ দিবসগুলো তারিখ সহকারে খুব গুরুত্বের সাথে মনে রাখে। কিন্তু এগুলো তার স্বামীকে সে জানাতে চায় না। বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যেই গোপনে লালন করে। এটা নিয়ে তারা অন্যদের সাথে খুব একটা আলাপ করে না। আর মানুষ যেটা অন্তরে লালন করে সেটার চাইতে প্রিয় আর কী হতে পারে! তাই-বলে এই বিষয়ে স্বামীর জন্য আপনার ফাঁদ পেতে রাখার দরকারটা কী? এমনটা কেন করতে যাবেন যে, আপনি ফাঁদ পেতে অপেক্ষায় থাকলেন আপনার স্বামী এই ফাঁদে পা দেয়, নাকি সাবধান হয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়! বুদ্ধিমতী স্ত্রীরা কখনো এই ফাঁদ পাতে না, তারা বরং স্বামীকে ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝাবে সামনে কোনো
গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ আছে। এবং এই উপলক্ষে স্বামী একটা কিছু করবে বলে সে আশায় আছে। হতে পারে সেটা তাদের বিবাহবার্ষিকী কিংবা তাদের জীবনের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিবস। এতে স্বামী সাদাসিধে হলেও আপনার বার্তা বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। সংসার-জীবনে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সম্পর্কের সেতু তৈরি করা, বিচ্ছেদের দেয়াল নয়।
স্বামীদেরকে মনে রাখতে হবে, একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে খুব বড় কিছুর অপেক্ষায় থাকে না। ছোট্ট একটা উপহার চায় সে, কিংবা একটুখানি সারপ্রাইজ। আমাদের সবারই তো মোবাইল ফোন আছে। সেখানে একটা নোট লিখে রাখলেই হয়, যেটা অমুক অমুক তারিখে আপনাকে উপলক্ষগুলো স্মরণ করিয়ে দেবে। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের কোনো দরকার নেই, সামান্য একটা ফুলের তোড়া, একটা হাদিয়া কিংবা একটা ভালোবাসার ম্যাসেজই তার জন্য যথেষ্ট। আমরা জীবনে অন্যদের জন্য অনেক কিছুই তো করি, অনেক এমন কাজও করি যা করতে আমাদের অন্তর সায় দেয় না। আমাদের তা পছন্দ না হলেও দেখা যায় কর্মস্থলের নিয়মের কারণে তা করতে হচ্ছে। বসকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে অনেক কাজই তো ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হয়। তেমনিভাবে অনেক কাজ করি প্রতিবেশীদের মন রক্ষা করতে, বন্ধুত্ব রক্ষা করতে কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে। তাই সংসারের স্বার্থে আমরা যদি কিছু কাজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে করি তাহলে দোষ কোথায়!
৫. তার বান্ধবীদের কাছ থেকে তাকে আগলে রাখবেন না
বিবাহ বন্ধন হচ্ছে এক ধরনের অংশদারত্বের চুক্তি। এটা কোনো মালিকানা-চুক্তি নয়। আমরা যখন এই চুক্তিতে আবদ্ধ হই তখন এই অংশদারত্বের চুক্তি টিকিয়ে রাখতে আমাদেরকে অবিবাহিত জীবনের অনেক অভ্যাসই পরিত্যাগ করতে হয়। একজন পুরুষকে হিসাব করতে হয় কতটুকু সময় তার অফিস, বন্ধু-বান্ধব আর সখ চর্চার জন্য দেবে। বাকিটা সময় তাকে দিতে হবে সংসারের জন্য। ব্যাচেলর-জীবনের মন-মানসিকতা আর আর জীবনধারা নিয়ে সংসার-জীবন চালানো যাবে না। স্ত্রীও যখন স্বামীর বাড়ি আসবে তখন তাকে বুঝতে হবে, এখন সে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে চলে এসেছে। এখানে তাকে সম্পূর্ণ নতুন মন-মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে, জীবনধারাও আমূল পাল্টে দিতে হতে পারে।
তবুও সংসারজীবনে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে বুঝতে হবে যে, তাদের উভয়েরই ব্যক্তিগত একটি জগৎ রয়েছে। স্বামী তার স্ত্রীর কাছে কখনোই এই দাবি করতে পারে না যে, অবিবাহিত জীবনের সবকিছুই তাকে ভুলে যেতে হবে। ভুলে যেতে হবে আগের আত্মীয়-স্বজন আর বান্ধবীদের। বিয়ে করে যেন সে নতুন করে জন্ম নিয়েছে। স্ত্রীরও উচিত হবে না স্বামীকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা। এটা ঠিক যে উভয়ে উভয়কে সময় দেবে, একে-অপরের যত্ন নেবে; তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা তাদের আগের বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ রাখতে পারবে না। মানুষ কোনো জীবনেই বন্ধু ছাড়া থাকতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে আমি বলব, স্ত্রীরা স্বামীদেরকে বন্ধুত্ব চর্চা করতে যতটুকু সম্মতি দেয়, বান্ধবীদের সময় দিতে স্বামীরা স্ত্রীদের অতটা সম্মতি দিতে চায় না। যদি আমরা কোনো স্বামীকে বাইরে বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটাতে দেখি তখন বুঝতে হবে তার বন্ধুদের দেখলে স্ত্রী একটু বেশি বিরক্ত হয়। এই ধরনের স্বামীদের বাইরে-সময়-কাটানোর অর্থ এটা নয় যে, সে বন্ধুদের বেশি ভালোবাসে তাই তাদের সাথে বাইরে সময় কাটাতে ভালোবাসে। এর মূল কারণ হচ্ছে তার বন্ধুদের বেলায় স্ত্রীর বিরক্তি।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অনেকটা পাখি পালার মতো। যদি এই সম্পর্কটাকে খুব বেশি চাপ দিয়ে আটকে রাখতে চান তাহলে তা দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। আর যদি তাকে উন্মুক্ত ছেড়ে দেন তাহলে তা যেকোনো সময় উড়ে পালিয়ে যেতে পারে। আর যদি যত্ন করে ধরে রাখেন তাহলে আপনাকেই নিরাপদ ভেবে আপনার কাছে থেকে যাবে। এটাই তো পাখি পালার নিয়ম।
এভাবে আমাদেরকেও সংসারটাকে আগলে রাখতে হবে যত্নসহকারে। এই যত্ন ধরে রাখতে হলে আমাদের জানতে হবে যে, জীবনে বন্ধু-বান্ধব ধরে রাখাটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর একটি বিষয়। আমাদের মন-মানসিকতার উপর এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। আর আমরা যদি বিয়ের পর একে-অপরের বন্ধু-বান্ধব ধরে রাখার মতো পরিবেশ বজায় রাখি তাহলে সেটা আমাদেরই সংসারের জন্য বেশ ভালো হবে। সংসারের জন্য স্বামী-স্ত্রীর বন্ধুত্ব উপকারই বয়ে নিয়ে আসবে।
তাই তাকে বান্ধবীদের সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত করতে যাবেন না। এই বিষয়টা সব সময় আপনাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
এটা করতে গিয়ে তাকে সংসারের সকল কাজকর্ম বাদ দিতে হচ্ছে না। কিংবা সংসারের চাহিদার ব্যাপারে উদাসীনও হতে হচ্ছে না। তবে এই ভয়ে আপনি যদি তাকে বান্ধবীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তাহলে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যেতে থাকবে। এই বঞ্চনার জন্য আপনার সংসার হয়তো ভেঙে যাবে না, তবে আপনাদের সম্পর্কে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। আর আমরা কি চাই সংসার কোনোমতে টিকলেই হবে? আমরা চাই সংসার এগিয়ে যাক পারষ্পরিক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে। একজন রোগী যখন হাসাপাতালে বিভিন্ন মেশিনের নিচে পর্যবেক্ষণে থাকে তখন সে জীবিত থাকে ঠিকই, কিন্তু তার জীবনটাকে আমরা পরিপূর্ণ বলতে পারি না। এটা বাঁচাও না মরাও না। তাই নিছক বৈবাহিক সম্পর্ক আমাদের উদ্দেশ্য হতে পারে না।
৬. তাকে তার পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না
আমরা যখন কারো সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হই তখন দেখা যায় স্বামী কিংবা স্ত্রীরও পরিবার-পরিজন থাকে। তারা গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ডাল নয়। একজন ব্যক্তি কখনো তার পারিবারিক গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমরা যাতে কারো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নের কারণ না হই। আমরা যাতে কখনো কাউকে তার পারিবারিক বৃক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে রাখি, এ-বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
নামায-রোযার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাবা-মায়ের আনুগত্য ও সেবা। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব হচ্ছে শুধু দুনিয়াবি স্বার্থ নয়, তারা একে-অপরের আখিরাতের স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখবে। এ তো গেল দ্বীনী শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার কথা। আর দুনিয়ার কথা চিন্তা করলেও দেখা যাবে, যে পরিবারের জন্য ভালো হতে পারে না, সে কারো জন্যই ভালো হয় না। যে নিজের পরিবারের উপকার ভুলে যায়, সে কখনো অন্যের জন্য উপকারী কিছু করতে পারে না। কেননা, অন্য কেউ আমাদের যতই উপকার করুক, মনে রাখতে হবে তারা আমাদের পরিবারের দশ ভাগের এক ভাগও করতে পারবে না।
একজন উত্তম পুরুষ পরিবারের প্রতি তার স্ত্রীর সম্পর্ক আর ভালোবাসা দেখে কখনো শঙ্কিত হতে পারে না। তাকে বরং ভয় করতে হবে এমন স্ত্রীকে, যে নিজ পরিবারের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না। যে নারী নিজের পরিবারের ইহসান ভুলে যায়, সে কীভাবে স্বামীর উপকার করতে পারে বা স্বামীর উপকার মনে রাখতে পারে?
তেমনি একজন বুদ্ধিমতি স্ত্রী কখনো পরিবারের প্রতি স্বামীর আনুগত্য-ভালোবাসা দেখে শঙ্কিত হতে পারে না। তাকে বরং ভয় করতে হবে এমন স্বামীকে, যে নিজের পরিবারের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না। যে পুষি নিজের পরিবারের ইহসান ভুলে যায়, সে কীভাবে স্ত্রীর উপকার করতে পারে বা স্ত্রীর উপকার মনে রাখতে পারে? যে তার মায়ের ত্যাগ-তিতিক্ষা ভুলে যেতে পারে, সে কীভাবে স্ত্রীর ত্যাগে কৃতজ্ঞ থাকবে!
ভয়ঙ্কর হচ্ছে অবাধ্য আর অকৃতজ্ঞরা, সুবোধ আর কৃতজ্ঞরা কখনো ভয়ের কারণ হতে পারে না।
আমার দাদির কাছ থেকে শোনা একটি গল্প বলি। এক তরুণ পাশের গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ে করতে গেল। মেয়ের পরিবার ছেলের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল। ধুমধাম করে তাদের বিয়েও হয়ে গেল। বাসর-রাতের পরের দিন জামাই একটু ভোরেই ঘুম থেকে উঠে গেল। বাজার থেকে কেনা-কাটা করে নিয়ে এল। স্ত্রী দেখল জামাই দুই ধরনের গোশত নিয়ে এসেছে। কিছু গোশত পঁচা, কিছু তাজা।
স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি দুই পদের গোশত আনতে গেলেন কেন?’
‘তাজাটা আমরা খাব। আর পঁচাটা আম্মু আজকে বেড়াতে এলে তাকে খাওয়াব।’
এই কথা শুনে স্ত্রী আর কথা বাড়াল না। সে মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। সেদিন স্ত্রীর বাবা-মারাও এল মেয়ের হালপুরস্তি করতে। তারা এরকম প্রায়ই এসে মেয়ের খোঁজ-খবর নিয়ে যায়। বাব-মা আসার সাথে সাথে মেয়ে তাদেরকে সব খুলে বলল।
তারপর বলল, ‘আমাকে আপনারা তালাকের ব্যবস্থা করে দিন। আমি এই অসভ্যটার মতো অবাধ্য সন্তানের জন্ম দিতে চাই না। আপনারাই তো আমাকে এতদিন শুনিয়ে এসেছেন, যে তার পরিবারের জন্য ভালো কিছু করতে পারে না সে অন্যদের জন্য কিছুই করতে পারবে না!’
আমার খুব অবাক লাগে, যখন দেখি এমন অনেক স্বামী আছে যারা স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। আচ্ছা, কারো যদি পরিবার থাকে তাহলে সেটা কি দোষের? এটা কি একটা নিষ্ঠুর আচরণ নয় যে, একজন জীবিত থাকতেই তাকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া? জীবিত থাকলে কেউ তার পরিবারকে মৃতের মতো অদৃশ্য বলে সহজে মেনে নিতে পারে না।
উত্তম কোনো পুরুষ কখনো তার স্ত্রীকে পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে দেয় না। বরং সে পরিবারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহিত করে। সে কখনো কাউকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার কারণ হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে চায় না।
আমরা তো আসলে জান্নাতের বাসিন্দা। এই গ্রহে আমরা চিরস্থায়ীভাবে থাকতে পারব না। এই পৃথিবী-নামক গ্রহে আমাদের বেড়ানো একদিন শেষ হয়ে যাবে। তাই যেটা আমাদের স্থায়ী-নিবাস, সেটার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়াটাই হবে আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে আমরা কীভাবে পিতামাতার অবাধ্য হয়ে স্থায়ী নিবাসে জান্নাতের আশা করতে পারি? অন্যকে এভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থেকে আমরা কখনো এই জান্নাতের আশা করতে পারি না!
আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে আমাদের সম্পর্কের স্বার্থে সংসারের যোগসেতুটা সুন্দর করে সাজাতে পারি। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ সাজানোগোছানো থাকাটাই কাম্য। এর বিপরীতে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাউকে বাধা দেওয়াটা হবে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। এটা যত বড় গুনাহ তত বড় ঘৃণ্য ও অনৈতিক কাজ!
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে তাঁর মা দেখা করতে মক্কা থেকে মদীনায় আসেন। তখনও তিনি ইসলাম কবুল করেননি। আসমা মনে করলেন মা এখনো যেহেতু মুশরিক, সেহেতু তাকে অভ্যর্থনা জানানো ঠিক হবে না। তখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য লোক পাঠালেন, মাকে তিনি অভ্যর্থনা জানাবেন কি না।
নবীজি জবাবে বললেন, ‘তোমার মায়ের সাথে তুমি সম্পর্ক বজায় রাখো!’
একটু ভাবুন তো! মা পৌত্তলিক আর মেয়ে ঈমানদার। তারপরও দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা-মেয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করায় সম্মতি দেননি। তাহলে আমরা কীভাবে মা-মেয়ের বা মেয়ের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের ছিন্ন করতে চাই?
আমাদের জন্য তো উচিত হলো এই ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন হলে নাখোশ হওয়া, বজায় থাকলে খুশি থাকা; যে স্ত্রী তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না, তার ব্যাপারে সাবধান থাকা; আর যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে চায় তাকে উৎসাহিত করা।
আপনি যেখানে আপনার আত্মীয়-স্বজনকে ধরে রাখতে চান সেখানে আপনি কীভাবে বউকে তার আত্মীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে কৌশল বা বল প্রয়োগ করতে পারেন! মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের কাছে যার যার আত্মীয়-স্বজন খুবই প্রিয়। খেয়াল রাখতে হবে, তার সাথে কখনো গৃহবিবাদে জড়িয়ে পড়লে আপনি যেন নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে তাকে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে বারণ না করেন। তার আত্মীয়-স্বজন কিন্তু বিয়ের পর আপনারও আত্মীয়-স্বজনে পরিণত হয়। তাই নিজের মনে করে তাকে তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বঞ্চিত করবেন না। গৃহবিবাদের সময়ও বিবাদ মেটানোর দরজা খোলা রাখবেন। জঙ্গলের কোনো একটা পিঁপড়া আপনাকে কামড় দিলে তার জন্য আপনি পুরো জঙ্গল বিরান করে ফেলতে পারেন না। আপনার বাড়িতে একটা মাছি ঢুকলে পুরো বাড়িটাই ভেঙে ফেলতে পারেন না। আমাদেরকে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতির মুকাবিলা করতে হবে। আদবের সাথে বিবাদ মেটাবার চেষ্টা করে যেতে হবে। যে ব্যক্তি মানুষের সাথে কীভাবে ঝগড়া করতে হয় জানে না, সে জানে না কীভাবে মানুষের সাথে মিলতে হয়!
৭. তার সামনে অন্য কোনো নারীর প্রশংসা করবেন না
অন্যের প্রশংসা করাটা দোষের কিছু না; বরং একজন ভালো লোক অন্যের উত্তম গুণাবলির কদর করবে, এটাই স্বাভাবিক। যখন প্রয়োজন পড়বে তখন অন্যের গুণাবলির প্রশংসা করবে এটাই কাম্য। কথাপ্রসঙ্গে যদি এই কাজটা করা যায় তাহলে সেটাই করা উচিত। আমার ভালো লাগে, যখন কারো সাথে কথা বলছি এমন সময় তার একটা ফোন এল। যে ফোন করল তাকে আমি চিনলামও না। কথা শেষ করে আমাকে বলল, যে ফোন করল সে আমার পুরোনো এক বন্ধু কিংবা পুরোনো কলিগ। লোকটা আসলেই খুব ভালো। যেমন তার চরিত্র তেমন তার সাহস। কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ গোপন করা যেমনটা ভালো, তার চাইতে ভালো হচ্ছে তার ভালো গুণের চর্চা করা।
উত্তম চরিত্রের দাবি হচ্ছে বন্ধুবান্ধবের অনুপস্থিতিতে তাদের উত্তম গুণাবলির চর্চা করা। তদ্রূপ নারীরাও; বান্ধবীদের অনুপস্থিতিতে তাদের ভালো গুণের চর্চা করবে।
তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
সমস্যাটা হচ্ছে স্ত্রীর সামনে কারো এমন গুণের চর্চা করা যা চর্চা করার অধিকার আসলে আপনার নেই। যে গুণ নিয়ে আপনি তার সামনে কথা বলতে পারেন না, তার প্রসঙ্গ তোলার প্রশ্নই আসে না।
বিপরীত লিঙ্গের কতগুলো প্রশংসা সহজে করা যায়। এটা গ্রহণযোগ্য এবং লোকসমাজ এতে দোষের কিছু দেখে না।
ধরুন, স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বেরিয়েছেন। রাস্তায় সস্ত্রীক কোনো বন্ধুর সাথে আপনার দেখা হলো। তারপর পথেই আপনাদের কুশল বিনিময় হলো। আবার যে যার পথে হাঁটতে লাগলেন। এমতাবস্থায় আপনার স্ত্রীকে বললেন, ‘ওর বউটা আসলে খুব ভালো। দেখতে যেমন ভালো মনটাও তেমন ভালো। সবাইকে সাহায্য করার একটা ভালো মানসিকতা তার মধ্যে কাজ করে। তার স্বামী যখন অসুস্থ ছিল তখন তার পাশেই ছিল সারাটাক্ষণ।’ এই প্রশংসার মধ্যে খারাপ কিছু তো কেউ দেখবে না। আপনি তো এখানে আপনার বন্ধুর বউয়ের উত্তম গুণাবলির প্রশংসা করছেন মাত্র। বিশেষ করে তার মৌলিক মানবিক গুণের। সে তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিল তার বিপদেও। এ ধরনের গুণ অন্য ১০ জনের মতো আপনারও ভালো লাগে!
কিন্তু ওই নারীর এভাবে প্রশংসা করাটা আপনার স্ত্রীর জন্য খুবই পীড়াদায়ক। উপরন্তু শরীয়তের সীমানা ডিঙিয়ে যদি তাকে বলেন, ‘বন্ধুর বউটা দেখতে ভারি সুন্দরও। কথাবার্তার ভঙ্গি খুব মোলায়েম!’ তাহলে সে মর্মাহতই হবে না শুধু, বুঝে নেবে প্রকারান্তরে আপনি তাকে বলতে চাইছেন, সে ওই বন্ধুর বউয়ের চাইতে কম সুন্দর। তাই আপনি তাকে বাদ দিয়ে পরনারীর সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ান। তখন কিন্তু তার মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকবে। আপনার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে!
মনে করুন, আপনার স্ত্রী বাদে অন্য কারো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। এটা একে তো ভারি অন্যায়, এর পাশাপাশি আরেকটি অন্যায় করবেন স্ত্রীকে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে। স্ত্রীর সামনে এই পরনারীর প্রশংসা করে আপনার লাভটা কী? তাই বলা হয়ে থাকে, যা জানেন তার সবটাই বলে বেড়াতে হয় না। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীর মান-সম্মান ও অনুভূতির পরিচর্যা করা। অনুরূপ স্ত্রীরও দায়িত্ব হচ্ছে আপনার মান-সম্মান ও অনুভূতির প্রতি খেয়াল রাখা।
হয়তো-বা আপনি এটা মেনে নেবেন যে আপনার স্ত্রী আপনাকে এসে বলল, ‘অমুকের স্বামী খুব ভালো। যেমন তার চরিত্র তেমন তার মনটা।’ কিন্তু তার কোনো বান্ধবীর স্বামী সম্পর্কে যদি এমনটা বলে, তাহলে আপনি কিন্তু কখনো মেনে নেবেন না। তাই আপনি যেটা মেনে নিতে পারেন না, কীভাবে আশা করেন আপনি নিজে তা করলে স্ত্রী মেনে নেবে? একটু ভেবে দেখুন তো সে যদি এসে তার কোনো বান্ধবীর স্বামী কতটা সুদর্শন তার বর্ণনা দিতে থাকে তা আপনার মনে কতটা আঘাত করবে? আপনি তখন কতটা হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন? ঠিক তার মধ্যেও এই নারকীয় অনুভূতি দেখা দেবে যদি আপনি তার সামনে পরনারীর সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে থাকেন।
পৃথিবীতে যেমন সুন্দরীর অভাব নেই তেমনি নেই কোনো সুদর্শনের অভাব। আপনি যদি অবৈধভাবে পরনারীর সৌন্দর্য অবলোকন করেন তাহলে মনে রাখবেন তারও তো দুইটা চোখ আছে যা দিয়ে সুদর্শন পুরুষদের উপভোগ করতে পারে। পথেঘাটে সুন্দরী আর সুদর্শনদের উপর চোখ পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে এটা কি কখনো মেনে নেয়া যায় যে বাসায় গিয়ে আমরা স্ত্রীর সামনে ওই পথসুন্দরীদের বর্ণনা দিতে থাকব?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামীরাই পরনারীর সৌন্দর্যের বর্ণনা দেয়। আর ৯৯ শতাংশ নারী এই কাজ খুব একটা করে না। আমরা পুরুষেরা মনে করি পকেট ভরা থাকলেই হলো, অন্য কোনো দোষ কেউ তেমন একটা দোষ হিসেবে দেখে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কে আপনাকে এটা বলেছে? মনে রাখবেন, যে জিনিস নারীর জন্য দূষণীয় তা পুরুষের বেলায়ও দূষণীয়। আর আপনি যে ভারি পকেটের কথা বলছেন সেটা বাজারের হিসাব, বাসার নয়। মহান ব্যক্তিরা তো এই ভারি পকেটের উত্তম গুণটাকে কোনো গুরুত্বই দেননি!
অনেক স্বামী বোকার মতো স্ত্রীর ঈর্ষাকে উস্কে দিতে পরনারীর প্রশংসা করে বেড়ায়। তাও আবার তাদের সামনেই! তারা খুব করে চায়, স্ত্রী ঈর্ষার আগুনে জ্বলে পুড়ে কষ্ট পাক। এটা এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা, যে, অন্যের ভোগান্তি দেখে নিজে তৃপ্তি হাসিল করা।
আপনার কাজ হচ্ছে স্ত্রীর মন থেকে সকল ধরনের হীনমন্যতা দূর করা। বছরের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা বয়স্ক হতে থাকি। ধীরে ধীরে আমাদের রূপ ও শক্তি ম্লান হতে থাকে। আর সৌন্দর্য হারানোর আতঙ্কে থাকে বেশির ভাগ স্ত্রী। তাই আপনার দায়িত্ব হচ্ছে তার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে উৎসাহ জোগানো, তার হীনমন্যতাকে উস্কে দেওয়া নয়। আপনি যদি আপনার জীবনসাথীকে বলেন যে সে আর আগের মতো নেই, তার জন্য এর চাইতে বেদানাদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। আমরা সবাই তো বয়সের সাথে সাথে বুড়িয়ে যাচ্ছি। তবে এই বয়সগত স্বাভাবিক ত্রুটির ব্যাপারে যদি কিছু বলতেই হয় তাহলে আপনাকে তা সরাসরি না বলাই ভালো। তাই তার সামনে পরনারীর প্রশংসা করার মানেই হচ্ছে তাকে এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, এখন সে আপনার জন্য যথেষ্ট নয়। আপনার আরেকজন চাই!
৮. তার বুদ্ধিমত্তা যা-ই থাকুক, তাকে শ্রদ্ধা করুন
নারীরা চায়, সবসময় তাদের রূপের প্রশংসা করা হোক। তবে তার অর্থ এই নয় যে, কেবল তার মুখের সৌন্দর্যেরই প্রশংসা করতে হবে। আপনার স্ত্রী আপনার মতোই একজন মানুষ। একটি দেহের পাশাপাশি তার আছে মন এবং নির্দিষ্ট মানসিকতা। তার রয়েছে বিবেক। সেও অন্য দশ জনের মতো অপরের কাছ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আশা করে। সেও চায় কোনো পুরুষের কল্যাণে নিরাপত্তাবোধ উপভোগ করতে।
আপনি একজন রিয়েল ম্যান হিসেবে কখনো মনে করবেন না যে কোনো বিষয়ে তার সাথে পরামর্শ করলে আপনার পুরুষত্ব ও বুদ্ধিমত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সে তো আপনার জীবনসঙ্গিনী, কোনো শত্রু তো নয়। আপনার অর্ধাঙ্গিনী, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আপনারা দুজন মূলত একই জীবন-জাহাজের যাত্রী। বাঁচলে একসাথে, ডুবলেও একসাথে। আপনারা দুজনের একই পরিণতি বরণ করতে হবে। আপনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন তার প্রভাব আপনাদের দুজনের উপরই পড়বে। তাই তার কোনো বিষয়ে আপনার একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না। সে যদি মনে করে সে আপনার সিদ্ধান্তে শরীক নয় বরং অনুগত ভৃত্য মাত্র, তাহলে মনে বড় কষ্ট পাবে। তাই আপনি যদি একা একাই সব পরিকল্পনা করেন আর তা অপরের উপর চাপিয়ে দেন তখন সে নিজেকে অনুগত ভৃত্য ভেবে নিজেকে ছোট মনে করবে।
তার মতামতকে শ্রদ্ধা করা বলতে এটা বোঝাতে চাইছি না যে সে যা বলবে আপনি তাই করবেন। এটা আবার পুরুষ হিসেবে আপনার গোলামী হয়ে যাবে। আমি চাই আপনি তার শরীক হয়ে থাকবেন, তার গোলাম নয়।
তাকে পরামর্শ করার সুযোগ অবশ্যই দেবেন। তবে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সে বিষয়ে সাবধান করে দেবেন। আর যদি আপনার বিবেক তার কোনো সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে, তাহলে তার প্রশংসা অবশ্যই করবেন। আপনার যে-কোনো ব্যাপারেও সে যদি মতামত দিতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই এর সুযোগ ও অনুমতি দেবেন। যদি তার সিদ্ধান্তমতো পদক্ষেপ নাও নেন তবুও তাকে অংশগ্রহণ করতে দিয়ে আপনি আসলে তার বুদ্ধিমত্তাকে শ্রদ্ধা জানালেন। তার মতামতও জানলেন। হোক না তা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়! তখন সে মনে করবে সে আপনার কোনো দাসী নয়, আপনার জীবনের অংশীদার। তবে সবশেষে আপনাকে কোনো একটা সিদ্ধান্ত তো নিতেই হবে। পরামর্শ করে আপনি যদি মনে করেন আপনারটাই সঠিক তাহলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলেও তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না!
তবে এমনও হতে পারে যে তার পরামর্শটাই উত্তম। সে এমন কিছু দেখল যা আপনি খেয়ালই করেননি। দেখলেন তার পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়াটাই উত্তম। তাহলে তার পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যাটা কী!
আমার বুঝে আসছে না পুরুষদের মাথায় কে এটা ঢুকিয়েছে যে, পুরুষত্ব তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করে যখন স্ত্রীর মতের বিরোধিতা করা হয়!
অনেককেই চড়া গলায় বলতে শোনা যায় তাদের সাথে পরামর্শ করো, তবে কাজ করবে ঠিক তার উল্টোটা। তারা এই কথাটা এতটাই গাল ভরে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে যেন তা কোনো এক ঐশী বাণী কিংবা বুখারীর কোনো সহীহ হাদীস। বাস্তবে বলতে গেলে এটা আসলে কোনো অলস মস্তিস্কের তৈরি, যার মধ্যে রুগ্ন পুরুষত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই মাত্র!
এ ব্যাপারে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতেই উত্তম আদর্শ খুঁজে পাব। তিনি তো ছিলেন পুরুষদের সেরা। তারপরও তিনি তাঁর স্ত্রীগণের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিতে দ্বিধা করতেন না। শুধু তাই নয়, তাঁদেরটা উত্তম মনে হলে তিনি সেটাই কার্যকর করতেন। তাই-বলে এটা মনে করবেন না যে তিনি তাঁদের সাথে শুধু ঘরোয়া ব্যাপারেই পরামর্শ করতেন। উম্মতের স্বার্থ-বিজড়িত এমন অনেক বিষয়েও তিনি তাঁদের সাথে গুরুত্বের সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
আম্মাজান উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা হুদাইবিয়ার ঘটনার সময় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথেই ছিলেন। আপনারা তো জানেন হুদাইবিয়ার ঘটনায় মক্কার কুরাইশদের সাথে মুসলমানদের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে এখানে আর বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না। আমি শুধু পরামর্শক হিসেবে আমাদের আম্মাজান উম্মু সালামার ভূমিকা ও নবীজির দৃষ্টিতে তাঁর গুরুত্বটা তুলে ধরতে চাইছি।
ইহরামের সাদামাটা পোশাক পরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা থেকে সাহাবাদের নিয়ে বের হলেন উমরা পালনের জন্য। যখন তাঁরা মক্কার কাছে হুদাইবিয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছুলেন, তখন সবাই সফরের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাত্রাবিরতি দিলেন। এখান থেকে তাঁরা আবার মক্কাপানে রওয়ানা দেবেন। কিন্তু এদিকে করাইশরা পণ করে বসেছিল যেভাবেই হোক নবীজি ও সাহাবীদের মক্কা প্রবেশ ঠেকাতেই হবে, যদিও তাঁরা সবাই ছিলেন নিরস্ত্র এমনকি পরিধেয় বস্ত্রগুলোও ইহরাম বাদে তেমন কিছু না। এ নিয়ে উভয়পক্ষে অনেক কথা চালাচালি হলো। অবশেষে উভয় পক্ষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, মুসলমানরা এ বছর ফিরে যাবে। উমরা করতে আসবে পরের বছর। তাছাড়া আরও অনেক শর্ত যা এখানে আমাদের জানার খুব একটা প্রয়োজন নেই।
এই চুক্তির পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের মাঝে এসে ঘোষণা দিলেন তাঁরা যে উমরার জন্য এসেছিলেন তা পালন করা হয়ে গেছে। যদিও তা বাস্তবে পালন করা সম্ভব হয়নি তবুও ধরে নিতে হবে এই উমরা পালন করা হয়ে গেছে যেহেতু তারা এতদূর এত কষ্ট করে এসেছেন শুধুমাত্র উমরা পালনের জন্য। আর কর্মফল নির্ভর করে নিয়তের উপর। কিন্তু হাজার হলেও সাহাবারা ছিলেন মানুষ। এতদূর এত কষ্ট করে এসে উমরা না করে তাঁরা ফিরে যেতে চাইছিলেন না। তাছাড়া আল্লাহ, তাঁর দ্বীন আর তাঁর রাসূলের ভালোবাসা থেকে তাঁরা এটাই মনে করতে লাগলেন যে, এভাবে ফিরে যাওয়াটা হবে কুরাইশদের জন্য বিরাট এক বিজয়। তাই তাঁরা এটাকে নিজেদের একটা পরাজয় মনে করতে লাগলেন।
মাসআলা অনুযায়ী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে ভেড়া জবাই করতে বললেন, যাকে বলা হয় হাদি। এটা করে মাথা মুণ্ডন করতে বললেন, যেহেতু উমরা হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই তা করতে চাইলেন না। এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবাধ্য হয়ে গেছেন। বরং, তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মান সমুন্নত রেখে তবেই মদীনায় ফিরে যেতে চাইছিলেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর তাঁবুতে প্রবেশ করে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সাহাবীদের মাথা মুণ্ডানো আর হাদির ভেড়া জবাই করতে অস্বীকৃতির বিষয়টা জানালেন। বললেন, ‘মুসলমানরা শেষ হয়ে গেছে!’
হ্যাঁ, এটা ঠিক যে নবীদের আদেশ অমান্য করা বড় গুনাহ, কারণ, তাঁদের আনুগত্য মানেই আল্লাহর আনুগত্য। এই সংকটের মুহূর্তে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেন। তিনি হিকমতের সাথে বললেন, ‘দেখুন তো, আমি যা বলব আপনার তা পছন্দ হয় কিনা! আপনি বের হয়ে কারো সাথে কোনো কথা না বলে আপনার নিজের ভেড়াগুলো জবাই করে ফেলুন। তারপর মাথা মুক্তিয়ে নিন। তাঁরা আপনাকে এটা করতে দেখলে নিজেরাও এটা না করে বসে থাকতে পারবেন না।’
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা অনুযায়ী কাজে নেমে পড়লেন। তিনি কারো সাথে কথা না বলে তাঁর সবগুলো ভেড়া জবাই করে ফেললেন। তারপর একজনকে ডেকে এনে নিজের মাথা মুবারক মুণ্ডন করে নিলেন।
এই দৃশ্য সাহাবগণ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন। এক সময় নিজেরাও উঠে গিয়ে নবীজিকে অনুসরণ করে হাদির বিধান পালনে ব্রতী হলেন। একে একে সবাই নিজ নিজ ভেড়া জবাই করে মাথা কামিয়ে নিলেন।
আচ্ছা বলুন তো দেখি, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পবিত্রতমা স্ত্রীর পরামর্শমতে পদক্ষেপ নিলেন, তাতে কি তাঁর পুরুষত্বহানি হয়ে গেল? সাবধান! তিনিই কিন্তু এর পরেও পুরুষদের সেরা হিসেবেই সকল জাতির কাছে পরিচিত রয়ে গেছেন। তিনিই আমাদের আদর্শ! তাই রুগ্ন পুরুষত্বের প্রবক্তাদের কথায় কান না দিয়ে একজন সত্যিকার পুরুষকে অনুকরণ করুন। স্ত্রীর সাথে এই বীর-পুরুষের মতোই আচরণ করুন!
৯. তার সাথে নরম হোন
আপনি যদি নারীদেরকে বলেন, ধনী ও রসিক পুরুষের মধ্যে যে কোনো একজনকে বেছে নিতে, তাহলে তাদের ৯০ শতাংশ রসিক পুরুষটাকে বেছে নেবে। আর ধনীর জায়গায় কোনো সুদর্শনকে যদি বসিয়ে দেন তাহলেও দেখবেন ৫০ শতাংশ হলেও রসিক পুরুষকেই বেছে নিচ্ছে। উপরন্তু সুদর্শন পুরুষের ব্যাপারে যদি তারা জানতে পারে যে সে বেরসিক, তাহলে এই হার আরো বাড়তে পারে।
রসিক বলতে আমি আবার পাতলা-মেজাযী পুরুষকে বোঝাচ্ছি না, যার ব্যক্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। আবার এমন লোককেও বোঝাচ্ছি না, যারা এমনভাবে পালিয়ে বেড়ায় যেমনটা ইসলাম-না-জানা মানুষ মহামারি-কবলিত এলাকা ছেড়ে পালায়। কিংবা এলাকার পানি শুকিয়ে গেলে যেমন গ্রামের লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আমি রসিক বলতে বোঝাচ্ছি এমন পুরুষ, যার ব্যবহার নম্র ভদ্র, একটু রসিকতা করতে পছন্দ করে, স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করে। রসিকতার অর্থ এই নয় যে, যেখানে তাকে গুরুগম্ভীর থাকতে হবে সেখানেও সে রসিকতা করে বেড়াবে। অবস্থা বুঝে যে নিজের অবস্থান নির্ণয় করতে পারে সেই হলো প্রকৃত পুরুষ।
তবে এখানে আপনারা আমাকে একটা যৌক্তিক প্রশ্ন করতে পারেন। তা হলো, নারীদের অনেকেই কেন এমন ধনী পুরুষকে প্রাধান্য দেয়, যারা বিয়েকেও একটা ব্যাবসায়িক চুক্তি হিসেবে দেখে? এ প্রশ্নের উত্তর আপনাদেরকে নারীদের কাছ থেকেই শোনাব, তবে তার আগে জেনে রাখুন, ধনের সাথে রসিকতার কিন্তু কোনো দ্বন্দ্ব নেই, দরিদ্র হলে যেমন কাউকে গুমরামুখো হতে হয়!
নারীরা ঠিক কেন রসিক পুরুষদের পছন্দ করে, তা জানার জন্য একটা জরিপ চালানো হয়েছিল। জরিপ থেকে যে কারণগুলো বেরিয়ে এসেছে তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হলো-
স্ত্রীকে খুশি রাখার মতো বাড়তি একটা যোগ্যতা আছে রসিক পুরুষদের,……..
বাকিটুকু পড়তে অবশ্যই সম্পূর্ণ বই পড়তে হবে। সম্পূর্ণ পিডিএফ পেতে সময় লাগবে।
ফিমেল মাইন্ড PDF
নোট: সম্পূর্ণ বই পেতে একটু সময় লাগবে অপেক্ষা করুন ইনশাআল্লাহ দ্রুত দিয়ে দেবো।
Tag:ফিমেল মাইন্ড PDF (পুরুষের জন্য স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার সূত্র) -লেখক আদহাম শারকাভি
(সবচেয়ে আগে সকল তথ্য,গুরুত্বপূর্ণ সকল পিডিএফ, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদেরGoogle News,FacebookএবংTelegram পেজ)