প্রবাসীদের ঈদের স্টাটাস ২০২৪ কস্টের,ফেসবুক,বার্তা~ প্রবাসীর ঈদুল ফিতর ২০২৪

প্রবাসীদের ঈদের কষ্ট,স্টাটাস,কবিতা,ছন্দ,বার্তা,মেসেজ | প্রবাসীদের ঈদ ২০২৩ (সৌদি আরব,ওমান,কাতার,আরব আমিরাত,সিঙ্গাপুর,কুয়েত)

প্রিয়জন ছাড়া ঈদ, যেনো এক অন্যরকম কস্ট। হাজারো মানুষ আশে পাশে থাকার পর ও নিজের ফ্যামিলি পাশে না  থাকায় সব কিছু যেনো শুন্য শুন্য লাগে। প্রবাসীদের ঈদ মানে নেই কোন আনন্দ,প্রবাসীতা শুধু বুঝে কাজ আর কাজ। ঈদের নামাজ আদায় করার পর ও অনেকের কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়। আবার অনেকে ফ্যামিলির সাথে মোটোফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান। সব কিছুর পরে বিশেষ এই দিনে প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়ে দেশের স্মৃতি। চেনা মুখগুলোর না দেখার কষ্ট।

       

প্রবাসীদের ঈদের কষ্ট

প্রবাস জীবন মানেই কস্ট। আর সেই কস্ট আরো বেরে যায় যখন কোন ঈদ আসে। তাই প্রবাসীদের ঈদের কস্ট নিয়ে নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় স্টাটাস দিতে চায়। তাই আজকে আমরা প্রবাসীদের ঈদের কস্টের কিছু স্টাটাস তুলে ধরার চেষ্টা করবো। 

>>ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। এই কথা সবাই মানলেও প্রবাসীদের জীবনে এই কথার বাস্তবতা খুজে পাওয়া মুশকিল। প্রবাসীদের ঈদটা একটু অন্য রকম। প্রবাসে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটা অত্যান্ত কষ্টের। মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ।

  এই ঈদকে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন আশা আকাংখা আর প্রস্তুতির কমতি থাকেনা। ঈদ আসে ঈদ যায় কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্ট এতটুকুও কমেনা।

 ফজরের আযানের পর দল বেধে ছুটা-ছুটি,দলবেধে পুকুরে ঘোসল শেষ করে সামান্য মিষ্টি মুখ করে নতুন জামা কাপড় পরে ঈদগাহ মাঠে যাওয়া এখন শুধুই স্মৃতি। এখন আর নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির কেউ ঢাক দিয়ে বলেনা সেমাই খেয়ে যাও।

  এখন আর নতুন জামা পরে সালাম করলে কেউ নতুন টাকার নোটগুলো হাতে উঠিয়ে দেয়না। এসবের একটাই কারন আর তা হলো আমি এখন বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক দুরে। সৌদি আরবের মরু প্রান্তরে। এখানে ঈদ মানে শুন্যতা, ঈদ মানে না পাওয়ার কষ্ট। পবিবার পরিজন ছাড়া ঈদ যে কত কষ্ট তা একমাত্র প্রবাসীরাই বুঝে। সকাল হলেই ঈদ এখনো আছি ডিউটিতে।

  শেষ রাতে ঘোসল সেরে সন্ধ্যা রাতের বাশী বাত এর বাশি তরকারী খেয়ে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি। পুর্বাকাশে সুর্য মামার দেখা পাওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায় ঈদের নামাজ । এর মাঝে আসতে শুরু করবে দেশ থেকে আপনজনদের মিসকল আর খুদে বার্তা।

  ঈদের প্রস্তুতি জানার জন্য ফোন করেছিলাম শারমিন কে। ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করতেই পাশ থেকে আমার দুই বছরের ছোট মেয়েটি কি যেন বলতে চাইছে ।

 তার মাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সে বুঝাতে চেয়েছে গতকাল বাজার থেকে আমার জন্য লাল টকটকে জামা আর বাঁশিওয়ালা জুতা এনেদিয়েছে। আর সেটা তার খুব পছন্দ হয়েছে। ছোট্র মেয়েটার অস্পষ্ট কথাগুলো শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো ।

  মা-মেয়ে দুজনের কথা শুনছিলাম আর চোখের পানি মুছতেছিলাম টিস্যু দিয়ে ।সবকিছু খুলামেলা না বললেও এতুকুটু বুঝতে পেরেছি ঈদে খরচ করার জন্য যে টাকা পাঠিয়েছি তা বর্তমান সময়ের জন্য যথেষ্ট নয়। বললাম আজকালের মধ্যেই আরো কিছু টাকা পাঠিয়ে দিবো টেশন করবেন না। জানলাম সবার জন্য কেনাকাটা শেষ। এখন শুধু অপেক্ষা ঈদের দিনটীর জন্য।

  এতূকু জেনে ভালো লাগলো আমাদেরর কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে আমাদের পরিবার সুখে -শান্তিতে ঈদ করতে পারছে। এটুকুই প্রবাসীদের স্বার্থকতা। ঈদের নামাজ আর দেশে ফোন করার পর কষ্টের তীর্বতাটাকে আরো ভারী করে ঘুমানোর প্রস্তুতি।

আর্তনাদ~প্রবাসীদের ঈদ মানে কষ্ট~বিসর্গ

আজ চাঁদরাত, কাল ঈদ…। ছোটকালে এই রাতটার জন্য কত অপেক্ষা আর প্লান…। আর আজ এই রাতটা এলেই চোখদুটো পানিতে ভেসে উঠে…

শেষ রোজার ইফতারির ঠিক পর পরই এক ছুটে বাহিরে বের হয়ে যেতাম। চাঁদ দেখার জন্য টিনের চালের ছাদে উঠে আকাশটাতে তন্নতন্ন করে খুঁজতাম সরু ফালির সাদা দাগটিকে। আর আজ… নেটে বসে অপেক্ষা করি গ্রুপ ই-মেইলের, যদি কোন এনাউন্সমেন্ট আসে… কাল ঈদ…

চাঁদ দেখা গেলে, সবচেয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরতো আম্মা। সারা ঘরজুড়ে ম ম করতো সেমাই ভাজার গন্ধে…। দুধ ফুটানোর গন্ধে…। আর আজ আমার এই ঘর জুড়ে শুধুই এয়ার ফ্রেশনার-এর গন্ধ…

একটু রাত হলে আম্মা বের করে দিতেন ঈদের জন্য নতুন কেনা বিছানা, বালিশ, সোফার কভার…। আমার দায়িত্ব ছিলো ওগুলো ঠিকমতো লাগানো। আর আজ অপেক্ষা করছি আমার এই ঘরটাকে ভ্যাকুয়ুম ক্লিন করার জন্য…

মনে পরে যায়…

ফজরের আযানের পর দল বেধে ছুটা-ছুটি,দলবেধে পুকুরে ঘোসল শেষ করে সামান্য

মিষ্টি মুখ করে নতুন জামা কাপড় পরে ঈদগাহ মাঠে যাওয়া এখন শুধুই স্মৃতি। এখন

আর নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির কেউ ডাক দিয়ে বলেনা সেমাই খেয়ে

যাও। এখন আর নতুন জামা পরে সালাম করলে কেউ নতুন টাকার নোটগুলো হাতে উঠিয়ে দেয়না। এসবের একটাই কারন আর তা হলো আমি এখন বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক দুরে, সৌদি আরবের মরু প্রান্তরে। 

এখানে ঈদ মানে শুন্যতা, ঈদ মানে না পাওয়ার কষ্ট। পরিবার পরিজন ছাড়া ঈদ যে

কত কষ্ট তা একমাত্র প্রবাসীরাই বুঝে। সকাল হলেই ঈদ এখনো আছি ডিউটিতে। শেষ

রাতে ঘোসল সেরে সন্ধ্যা রাতের বাশী ভাত এর বাশি তরকারী খেয়ে ঈদের নামাজে

যাওয়ার প্রস্তুতি। পুর্বাকাশে সুর্য মামার দেখা পাওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে

যায় ঈদের নামাজ। এর মাঝে আসতে শুরু করবে দেশ থেকে আপন জনদের মিসকল আর খুদে বার্তা। 

এছাড়াও আপার বিয়ের পর আরেকটা কাজ রেগুলার করতাম চাঁদরাতে। আপার বাসায় যেতাম…। ভাগনিটার হাতে মেহেদী পরিয়ে দিতাম। ঈদের দিনে ছোটো ভাইএর আদুরে গলায় বখশিসের আবদার, আজকে ফোনে ভাগনিকে জিগ্গাস করলাম তোর কি লাগবে? কি পাঠাবো? ভাগনিটা বলে মামা আমার কিচ্ছু লাগবেনা… তুমি আসো…। স্বান্তনা দেই আসবোরে মা, খুব তাড়াতাড়িই আসবো…

আব্বা একটু রাত করে বাসায় ফিরতেন হাতে দু’টো লুঙ্গি হাতে…। বলতেন দেখতো বাবা কোনটা তোর পছন্দ? বলতাম, আপনার একটা পুরানা লুঙ্গি দেন আব্বা। নতুন লুঙ্গি আমার ভালো লাগেনা, খসখসে লাগে…। আজ টি-শার্ট আর সর্টস পরে হাতড়ে খুঁজি আব্বার পুরানো লুঙ্গি…।

ঈদের নামাজ আর দেশে ফোন করার পর কষ্টের তীর্বতাটাকে আরো ভারী করে

ঘুমানোর প্রস্তুতি। বুকফাটা কষ্ট আর যন্ত্রনাটাকে বুকে নিয়ে বিছানায় যেয়ে

চোখের পানিতে বালিশ বিজিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা যেন কষ্টের ভারটা একটু কমে।

আর তাতেই দুপুর ঘনিয়ে পুর্বের সুর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করে। বিছানা

থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে সামান্য কিছু মুখে দিয়ে দু’এক জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে

সামান্য আনন্দের প্রত্যাশায় অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলা। এভাবেই কেটে যায়

প্রবাসীদের ঈদ নামের কষ্টের দিনটি। ঈদ আসে ঈদ যায় কিন্তু প্রবাসী

শ্রমিকদের কষ্ট এতটুকুও কমেনা, প্রবাসে ঈদ। সুদূর বিদেশ-বিভুঁইয়ে ঈদ করা সবার খুব মন খারাপ আজ। সব্বার এক দশা! বাবা-মা-বন্ধু-দেশকে মিস করছে সবাই। প্রিয়জনই যদি পাশে না থাকে, তো ঈদ-আনন্দ কিসে। সকল প্রবাসী ভাই বোনদের প্রতি রইলো ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারাক চেনাজানা পৃথিবীটা দিন দিন তার রং বদলাচ্ছে…। জমে যাচ্ছে স্মৃতির ঝুলি। জানিনা আর কখনো ফিরে পাবো কিনা সেই দিনগুলো…। খুব মনে পরে সুনীলের সেই কবিতাটি – কেউ কথা রাখেনি…

“সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব…

আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা…”

আগামীকাল সাউদি আরবে ঈদ পালিত হবে। হবে অনেক আনন্দ…। অনেক উৎসব, পার্টি। কিন্তু আমার ঘরের সেই সেমাই ভাজা গন্ধ, সেই পুরোনো লুঙ্গি খোঁজা, ভাগিনির হাত মেহেদীতে রাঙানো ছোটো ভাইয়ের ছোটাছুটি চাঁদ রাত কি আর কখনোই খুঁজে পাবোনা? কখনোই কি পারবোনা নামাজ পরে এসে বাবা-মাকে সালাম করতে?

বারবার মনে পরছে এয়ারপোর্টের কাচেঁর ঘরটার ওপাশ থেকে হাত নাড়তে থাকা বাবা, মা, ছোটো ভাইটার মুখ…। চোখ দু’টো ভেসে উঠছে লোনা জলে…

সবাই ভালো থাকবেন…

ঈদ মোবারক…

❤💛💚💙💜🖤

জানি আমরা প্রবাসীদের***ঈদ মোবারক***জানানোর কেও নেই? তবুই মন থেকে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা।।

কে বলেছে প্রবাসীদের ঈদ নেই,,,,, প্রবাসীদের ও ঈদ আছে,,,, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারলেই প্রবাসীদের ঈদ হয়ে যায়।।।

প্রবাসীদের ঈদের কস্টের স্টাটাস

প্রবাসীদের ঈদের কবিতা

প্রবাসীর ঈদ
– অরিফুর রহমান কাজল 

আজকে আবার ঈদের দিন, খুশীর দিন ,
আবার তোমায় পড়ল মনে মা !
অনেক স্নেহের আঁচল তলে,
কবে আবার লইবে টেনে ?
আমার প্রবাস জীবন মাগো সাঙ্গ হবেনা ?

সেই প্রভাতের রাঙ্গাদিনে অনেক হেসেছি ,
কেমন করে সবার প্রতি ভালেসেছি ;
তেমনি করে বাসতে ভাল ,
তেমনি করে হাসতে মাগো হয়যে বাসনা ।
জানি মাগো চপল ছিলাম
অবুঝ ছিলাম গ্রাহ্য করি নাই ,
মেঘে মেঘে উড়ে গেছি মনের গতির সাথে ,
পথের দিশা হারিয়ে গেছে কখন জানিনা ।
ডাক পাড়ি তাই চারিদিকে –
কোথায় আমার ‘মা’ ?

………..প্রবাসীদের কথা………..

প্রবাসীদের টাকায় যারা করছো কেনাকাটা 

মনে রেখো অতি কষ্টের ঘাম ঝরানো খাটা ,

প্রয়োজন যেটা নিতে পারো কোন বাধা নয়

অকারনে করো না যেন অযথা অপচয়  |

পরিবারের রাখতে খুশি বিদেশে আছে যারা

তেলের কলুর বলদ হয়ে টানছে ঘানি তারা ,

দিন চলে যায় রাত আসে হায় রাত যে হয় দিন

নিজের কথা ভাবে না ওরা শোধ করে যায় ঋণ  |

পরিবারের রাখতে খুশি বিদেশে আছে যারা

তেলের কলুর বলদ হয়ে টানছে ঘানি তারা ,

ঘাম জড়িয়ে যায় প্রতিদিন মানে না পরাজয়

অকারনে করো না যেন অযথা অপচয়  |

ঈদের দিনে তোমরা যখন খুশিতে মাতোয়ারা

অশ্রু তে কেউ গাল ভেজায় প্রবাসেতে যারা ,

হাসিমুখে সব করে বরণ কাঁদে আঁধার রাত্রি

আসলেতে ওরাই হলো যেন মোমের বাতি  |

তোমাদেরই রাখতে খুশি সকল কষ্ট সয়

অকারনে করো না যেন অযথা অপচয়…..!!!!!!!!

Tag:প্রবাসীদের ঈদের কষ্ট,স্টাটাস,কবিতা,ছন্দ,বার্তা,মেসেজ, প্রবাসীদের ঈদ ২০২৪ (সৌদি আরব,ওমান,কাতার,আরব আমিরাত,সিঙ্গাপুর,কুয়েত)

(সবচেয়ে আগে সকল তথ্য,গুরুত্বপূর্ণ সকল পিডিএফ, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদেরGoogle News,FacebookএবংTelegram পেজ)

Leave a Comment