ডায়াবেটিস কমানোর ১০ সেরা উপায় – জানলে অবাক হবেন!


 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়,ডায়াবেটিস,ডায়াবেটিস এর লক্ষণ,দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়,ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

বর্তমানে ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের প্রায় ৭৫% মানুষ এখন ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত।
অতীতে ৬০ থেকে ৬৫ বয়সের ঊর্ধ্বে মানুষের
 ডায়াবেটিস
হত। কিন্তু এখন যেকোন বয়সের মানুষের
 ডায়াবেটিস
হয়। আর একবার কারো ডায়াবেটিসে
 হলে এর থেকে মুক্তির কোন উপায়
নেই। তবে নিয়মিত ব্যায়াম
, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং ডায়াবেটিস কমানোর উপায় ফলো করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

আজ আমি এই
আর্টিকেলে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি আর্টিকেলটি পড়েন এবং
নিয়মিত ডায়াবেটিস কমানোর উপায়গুলো ফলো করেন তাহলে আপনি ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি না
পেলেও ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। চলুন প্রথমে জেনে নেই
 ডায়াবেটিস কি। 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস হরমোন
জনিত একটি রোগ। মানব শরীরের অগ্নাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে কিংবা
শরীর যদি অগ্নাশয় থেকে উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহার করতে না পারে
 তাহলে এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। আর ডায়াবেটিস রোগ হলে রক্তের চিনি
কিংবা শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।

এক কথায়, শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি হলে যে রোগ হয় তাকে ডায়াবেটিস বলে। একবার
ডায়াবেটিস রোগ
 
হলে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া বিকল্প
কোনো পথ থাকে না। ডায়াবেটিস থেকে কখনো চিরতরে মুক্তি লাভ করা যায় না। তাই এর
একমাত্র উপায় হল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ
হলে ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি নষ্ট সহ বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে এটি একটি কাঠের ঘুনের মত ক্ষয়রোগ। তাই সব সময় ডায়াবেটিস কমিয়ে
রাখা উচিত। এখন দেখে নিন ডায়াবেটিস কমানোর উপায়।

ঔষধ ডায়াবেটিস
রোগীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ১ থেকে ২ দিন ঔষধ না খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। আর
ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে শুরু হয়ে যায় টেনশন কিন্তু ডায়াবেটিস কমানোর এমন উপায়
আছে যা
 মেনে চললে ডায়াবেটিস তো কখনো বাড়বে না বরং সব সময় ঔষধ ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এখন আমরা ডায়াবেটিস কমানোর সেই চমৎকার উপায় গুলো
সম্পর্কে জানব কিন্তু তার পূর্বে ডায়াবেটিসের কারণ
, লক্ষণ
ও প্রকারভেদ সম্পর্কে একটু জেনে নিব।

ডায়াবেটিসের
কারণ

অনেক কারণে
মানুষের ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে কিংবা অনেক কারণে মানুষ নতুন করে ডায়াবেটিসে
আক্রান্ত হতে পারে। নিন্মে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বা ডায়াবেটিস বেড়ে
যাওয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ তুলে ধরা হলো।

১। শরীরের
সঠিকভাবে ইনসুলিন তৈরি না হওয়া।

২। শরীরের কোষগুলো
সঠিকভাবে ইনসুলিন
 গ্রহণ করতে সক্ষম না হওয়া।

৩। চিনি বা মিষ্টিজাতীয়
জিনিস বেশি পরিমাণে খাওয়া।

৪। অতিরিক্ত
চিন্তা ভাবনা করা।

৫। সব সময় মানসিক
চাপে থাকা।

৬। সুষম ডায়েট
লিস্ট ফলো
 না করা।

৭। প্রচুর পরিমাণে
অ্যালকোহল পান করা।

৮। ঠিকমতো ঔষধ না খাওয়া এবং ইনসুলিন গ্রহণ না করা।

ডায়াবেটিস এর
লক্ষণ

ডায়াবেটিসের কিছু
কমন লক্ষণ আছে যে লক্ষণগুলো কারো মধ্যে দেখা গেলে এটা নিশ্চিত যে সে ডায়াবেটিসে
আক্রান্ত হয়েছে। এখন ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলো জেনে নিন।

১। ঘন ঘন প্রস্রাব
হওয়া।

২। ওজন কমে
যাওয়া।

৩। অতিরিক্ত পানির
পিপাসা লাগা।

৪। খুব ক্ষুধা
লাগা এবং ক্লান্তি বোধ হয়।

৫। শরীরের কোথাযও
ইনফেকশন হলে সহজে না সারা।

৬। শরীরের চামড়া শুকিয়ে বৃদ্ধ মানুষের মতো হয়ে যাওয়া।

৭। হাত পা অবশ
হয়ে যাওয়া।

এই লক্ষণগুলো কারো
মধ্যে দেখা গেলে সে আজই ডায়াবেটিস টেস্ট করুন এবং ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
অবলম্বন করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ডায়াবেটিসের
প্রকারভেদ

সাধারণত
ডায়াবেটিস দুই ধরনের হয়ে থাকে।
Type 1 ডায়াবেটিস এবং Type 2 ডায়াবেটিস। যখন শরীর নিজে নিজে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না তখন তাকে Type
1
ডায়াবেটিস বলে। আর যখন শরীরের মধ্যে ডায়া ইনসুলিন তৈরি হয় কিন্তু
শরীরের কোষগুলো এই ইনসুলিন
 গ্রহণ করতে পারে না 
তখন তাকে Type 2 ডায়াবেটিস বলে। কারো Type 1 ডায়াবেটিস হোক আর Type 2 ডায়াবেটিস হোক ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস। আর ডায়াবেটিস হলে ডায়াবেটিস
অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এখন জেনে নিন কিভাবে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কিংবা ঔষধ ছাড়াই ডায়াবেটিস
কমানোর উপায়

ওষুধ
ছাড়াই ডায়াবেটিস
 
কমানোর ১০ সেরা  উপায়

১। ডায়াবেটিস কমাতে উচ্ছে

তিতো জাতীয় খাদ্য
ডায়াবেটিস এর মহাষৌধ। তিতো জাতীয় খাদ্যের মধ্যে উচ্ছে কিংবা করলা
 কিংবা নিমপাতা উল্লেখযোগ্য। তাই ডায়াবেটিস কমাতে উচ্ছে কিংবা করলার
জুড়ি নেই। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা বলেন যে তিতো জাতীয় খাদ্য খেলে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণ থাকে।
 উচ্ছে কিংবা করলার পাতায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিসিন ও পলিপেপটাইড পি থাকে যা রক্তের শর্করার
পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া নিয়মিত উচ্ছে কিংবা করলার পাতা সেবনের ফলে
রক্তের সুগার কমে যায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই ডায়াবেটিস কমাতে
নিয়মিত উচ্ছে কিংবা করলার পাতা জুস করে খান। এছাড়া ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে উচ্ছে কিংবা করলা রাখতে পারেন।

২। ডায়াবেটিস কমাতে দারুচিনি

দারুচিনি
শুধুমাত্র রান্নাঘরের মসলা নয়। এটির ঔষধিগুণ অনেক। বিশেষভাবে টাইপ টু
ডায়াবেটিসের জন্য দারুচিনি খুব উপকারী। এতে আছে সিনামালডিহাইড যা ডায়াবেটিসের
প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। সুদূর প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে
ডায়াবেটিস কমাতে দারুচিনি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে মহামারী ডায়াবেটিস কমাতে
প্রত্যেক ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর নিয়মিত দারচিনি খাওয়া উচিত।

এক গবেষণা রিপোর্ট
অনুযায়ী যদি কোন ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী একটানা ৪০ দিন ৬গ্রাম করে দারুচিনি
খায় তাহলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টরেল কমে যাবে। তাই নিয়মিত
প্রতিদিনের তরকারিতে দারুচিনি যোগ করুন অথবা উষ্ণ গরম পানির সাথে এক চামচ
দারুচিনির গুড়া
 মিশিয়ে প্রতিদিন একবার সেবন করুন। এতে টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

৩। ডায়াবেটিস কমাতে মেথি

ডায়াবেটিস কমাতে
মেথি অসাধারণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। মেথিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যার ফলে রক্তের
সুগারের মাত্রা বাড়তে পারে না। তাছাড়া মেথি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রাকৃতিক
 ইনসুলিন হিসাবে কাজ করে। তাই নিয়মিত
ওষুধ না খেয়ে প্রতিদিন রাতে ১০ গ্রাম মেথি বীজ এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করুন।
 
এতে আপনার
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বিশেষভাবে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি
ভেজানো পানি খুবই উপকারী। এককথায়, এই মেথি ভেজানো পানি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
প্রাকৃতিক ইনসুলিন।

৪। ডায়াবেটিস কমাতে কারিপাতা

ডায়াবেটিস কমাতে
কারিপাতা একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উপাদান। প্রকৃতপক্ষে
, কারিপাতা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিস
আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে স্টার্চ থেকে গ্লুকোজ ভাঙ্গার হার কমিয়ে দেয়। ফলে ধীরে
ধীরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে।

৫। ডায়াবেটিস কমাতে জামের বীজ

কালো জামের বীজ
ডায়াবেটিস কমানোর জন্য বেশ উপকারী। এতে আছে অ্যান্টোসায়ানিনস
, এলাজিক অ্যাসিড ও  হাইড্রোলাইজেবল
ট্যানিনস জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস
 
যা সহজে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই বলা যায় কালো জামের বীজ ডায়াবেটিস রোগীদের
জন্য একপ্রকার সুপার ফুড। এটি মূলত রক্তের
 

প্রসাবের সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি খাওয়ার জন্য প্রথমে
কালো জামের বীজ রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে নিন। এরপর প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ চা
চামচ কালো জামের বীজের গুড়া এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খান। এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে ঔষধ ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৬। ডায়াবেটিস কমাতে কফি

ডায়াবেটিস কমাতে
কফি খুব কার্যকর। নিয়মিত কফি পান ডায়াবেটিস টাইপ টু ঝুঁকি কমায় বা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই দিনে ৩বার কফি খান আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
রাখুন। তবে মনে রাখবেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুধ ও চিনি বাদে কফি খেতে
হবে। এককথায়
, ব্লাক কফি খাবেন। নিয়মিত ব্লাক কফি পান করলে
২৯
% ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমে আসে।

৭। ডায়াবেটিস কমাতে টক দই

টক দই একটি অন্যতম
পুষ্টিকর খাদ্য। টক দইয়ের মধ্যে থাকা উপাদানসমূহ শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা
পূরণ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত শরীর থেকে সুগার বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে
পুষ্টির ঘাটতি হয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য টক দই একটি সুপার ফুড। এছাড়া টক
দইয়ের মধ্যে চিনির পরিমাণ কম থাকে। ফলে এটি ডায়াবেটিস বাড়ায় না বরং রক্তের
সুগারের মাত্রা কমায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত টক দই খান।

৮। ডায়াবেটিস কমাতে লেবু

ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণ করতে লেবু বিরাট ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে যে
শরীরে ভিটামিন সি এর অভাবে ডায়াবেটিস হয়। লেবু হল ভিটামিন সি এর ভাণ্ডার। তাই
শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত
৩বার খাওয়ার সময় পাতে লেবু রাখুন। এছাড়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিনি ছাড়া
লেবুর রস ও পানি মিশিয়ে এক গ্লাস খেয়ে নিন। এতে সারাদিন শরীর এলার্জিতে পরিপূর্ণ
থাকে এবং সাথে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

৯। ডায়াবেটিস কমাতে মটরশুটি

মটরশুঁটি
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায়
 শর্করা, ফ্যাটলেস প্রোটিন এবং খাদ্য-আঁশ যা রক্তের চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এটি
টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু উভয় প্রকার ডায়াবেটিস
 নিয়ন্ত্রনে
রাখে। তাই প্রতিদিন
 ১ কাপ মটরশুঁটি খান আর
ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পান।

১০। ডায়াবেটিস কমাতে সবুজ শাকসবজি

নিয়মিত শাকসবজি
খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে এবং ডায়াবেটিস হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সবুজ
শাকসবজিতে ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট কম। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা গেছে সবুজ
শাকসবজি খেলে ১৪
% ডায়াবেটিস কমে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রতিদিনের
খাদ্যতালিকায় ওলকপি
, ফুলকপি, বাঁধাকপি,
শালগম, লেটুস পাতা, কারি পাতা ও পালং শাক যোগ করুন।

পড়তে পারেনঃ

দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

১। প্রতিদিন ৩০ মিনিট
হাঁটুন। সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটুন।

২। মানসিক চাপ কমান।

৩। ধূমপান বর্জন করুন।

৪। ফাস্টফুড এড়িয়ে
চলুন।

৫। সবুজ চা খান।

৬। চীনাবাদাম খান।

৭। প্রচুর পরিমাণে
সামুদ্রিক মাছ খান।

৮। নিয়মিত শস্যদানা যেমন
খান।

৯। তিন বারই ভাতের সাথে
সালাদ খান।

১০। আপেল সিডার ভিনেগার
খান।

ডায়াবেটিস
কত হলে নরমাল?

খালি পেটে:

নরমাল= 5.6
mmol/L 

প্রি ডায়াবেটিস= 5.6
– 6.9 mmol/L

ডায়াবেটিস= 7 mmol/L বা তার বেশি

খাওয়ার দুই ঘন্টা
পর:

নরমাল= 7.8
mmol/L

প্রি ডায়াবেটিস= 7.8
– 11 mmol/L

ডায়াবেটিস= 11.1
mmol/L

বা তার বেশি

যেকোন সময়:

নরমাল= 4.4 – 7.8 mmol/L

প্রি ডায়াবেটিস= 7.8
– 11 mmol/L

ডায়াবেটিস= 11.1
mmol/L

বা তার বেশি

হিমোগ্লোবিন A1C টেস্ট:

নরমাল= 5.7% এর কম

প্রি ডায়াবেটিস= 5.7% – 6.4%

ডায়াবেটিস= 6.5% বা তার বেশি

ডায়াবেটিস
রোগীর খাদ্য তালিকা

কোন ডায়াবেটিস
রোগীর যা খুশি তা খেতে পারে না। ডায়াবেটিস রোগীর খাওয়ার বিষয়ে কঠোর নিয়ম মেনে
চলতে হয়
,
নিয়মানুবর্তিতার সহিত রুটিন মাফিক জীবন যাপন করতে হয় এবং
সময়মত ঔষধ খেতে হয়। যদি কোন ডায়াবেটিস রোগী সময় মত খাদ্য ও ঔষধ খায় এবং
নিয়মিত ব্যায়াম করে তাহলে ডায়াবেটিস তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। এখন
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা দেখে নিন।

সকালের খাদ্য: প্রতিটা
ডায়াবেটিস রোগীকে সকাল ৭ টা থেকে ৯ টার মধ্যে সকালের নাস্তা খেতে হবে। কোনক্রমেই
সকাল ৯ টা অতিক্রম করা যাবেনা। সকালের নাস্তায় রুটি বা মুড়ি বা চিড়া ও নিরামিষ
খেতে হবে এবং সাথে থাকবে একটি ডিম।

দুপুরের খাদ্য: দুপুরের
খাদ্য ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে খেতে হবে। দুপুরে পরিমান মত ভাত
, মাছ বা মাংস খেতে হবে।

বিকালের নাস্তা: বিকালের
নাস্তা ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে করতে হবে। বিকালের নাস্তায় একটি কলা
, চিনি ছাড়া বিস্কিট এবং রং চা খেতে পারেন। সাথে বাদাম, ছোলা, সুপ, মিষ্টি
ছাড়া পিঠা
, কামরাঙ্গা, আমলকি,
আমড়া রাখতে পারেন।

রাতের খাদ্য: রাতের
খাদ্য ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে খেতে হবে। রাতে রুটি
, মাছ বা মাংসের যেকোনো একটি  সবজি খেতে
হবে। সাথে সালাদ ও লেবু রাখতে পারেন।

অতিরিক্ত খাদ্য: সকাল ১০ টার দিকে ১ কাপ পরিমাণ ফল খেতে পারেন এবং রাতে ঘুমানোর আগে এক
কাপ পরিমাণ দুধ বা দই বা ছানা বা পনির খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস
কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়?

রক্তে শর্করার
পরিমাণ ১৬.৭ মিলিমোল কিংবা ৩০০ গ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি কিংবা গড় শর্করা এইচবিওয়ান
সি ১০ শতাংশের বেশি হলে ইনসুলিন নিতে হয়। এই সময় কোন ঔষধ কার্যকর নয়। ইনসুলিন
দিয়ে ডায়াবেটিস এর পয়েন্ট আগে কমিয়ে নিতে হবে। তা না হলে কিডনি নষ্ট সহ শরীরের
নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস
কত হলে মানুষ মারা যায়?

ডায়াবেটিস
পয়েন্ট কত হলে যে মানুষ মারা যায় তা নির্দিষ্ট করে কোন কিছু বলার নেই। তবে
ডায়াবেটিস এর পয়েন্ট মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিডনি নষ্ট সহ স্ট্রোক ও হার্ট
অ্যাটাক করে অনেক মানুষ মারা যায়। তাই ডায়াবেটিস এর পয়েন্ট বেড়ে গেলে ইনসুলিন
দিয়ে তা কমিয়ে রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর
নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীর
নিষিদ্ধ খাবার তালিকার মধ্যে মিষ্টি অন্যতম। এছাড়া আরো অনেক খাবার
 আছে যা খেলে ডায়াবেটিস রোগীর নিশ্চিত ক্ষতি হবে। এখন ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা দেখে নিন।

১। মিষ্টিজাতীয়
যাবতীয় খাবার।

২। অতিরিক্ত তেল
দিয়ে রান্না করা খাবার।

৩। ডুবো তেলে ভাজা
খাবার।

৪। চর্বিজাতীয়
যাবতীয় খাবার।

৫। গরু, খাসি, হাঁস ও পাখির মাংস।

৬। মাটির নিচে
তরকারি যেমন ওল
, কচু ও আলু অল্প পরিমাণে খাবেন।

ডায়াবেটিস
কি খেলে ভালো হয়?

এমন কোন ওষুধ
আবিষ্কার হয়নি কিংবা এমন কোন খাদ্য নেই যা খেলে ডায়াবেটিস ভালো হয়। তবে অনেক
ঔষধ ও খাদ্য আছে যা খেলে ডায়াবেটিস কমে কিংবা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমি আর্টিকেল এর
প্রথম দিকে যা খেলে ডায়াবেটিস কমে কিংবা নিয়ন্ত্রণে থাকে তা উল্লেখ করেছি। আপনি
সেই উল্লেখিত খাদ্যগুলো খান আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ডায়াবেটিস
হলে কি কি সমস্যা হয়?

ডায়াবেটিস হলে
মানুষের অনেক সমস্যা দেখা যায়। বিশেষভাবে কারো ডায়াবেটিস হলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে
, ঘন ঘন প্রসাব হয়, প্রচুর ক্লান্তি বোধ হয়
এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শরীরে
বড় বড় রোগ বাসা বাঁধে। ফলে ডায়াবেটিসের কারণে অকাল মৃত্যু হয়।

ডায়াবেটিস
বেড়ে গেলে করনীয়

অনেকের ডায়াবেটিস
বেড়ে গেলে খুব টেনশন ফিল করে। আসলে ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে টেনশনের কোন কারণ নেই।
প্রথমে আপনাকে টেনশন ফ্রি হতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আপনাকে ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস
কমিয়ে আনতে হবে। তৃতীয়তঃ ডায়াবেটিস কমে আসার পরে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে এবং
সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। এর সাথে যে খাদ্য খেলে ডায়াবেটিস কমে সেই
খাদ্যগুলো নিয়মিত খেতে হবে। এগুলো করতে পারলেই ডায়াবেটিস সবসময় নিয়ন্ত্রণে
থাকবে। কখনো ডায়াবেটিস এর পয়েন্ট মাত্রাতিরিক্ত হবে না।

উপসংহারে বলা যায় যে নিঃসন্দে ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ। এই মারাত্মক রোগটি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে এর কারণে অকালে মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই যদি
কারো মধ্যে ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে সাথে সাথে তাকে ডায়াবেটিস
পরীক্ষা করতে হবে। আর যদি তার
 ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাহলে তাকে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় অনুসরণ করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তা না হলে এই ডায়াবেটিস শরীরে কিডনিরোগ
সহ অনেক মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে অকালে মৃত্যু ঘটাতে পারে। সুতরাং ডায়াবেটিস
আক্রান্ত রোগীরা ওষুধের পাশাপাশি ডায়াবেটিস কমানোর উপায় গুলো ফলো করলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

রিলেটেড পোস্টসঃ

Leave a Comment