এসএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ পৌরনীতি ও নাগরিকতা (সংশোধিত)
সমাধানঃ
ক ) পরিবার ও পরিবারের ধরনঃ
পরিবারঃ
সমাজ স্বীকৃত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী – স্ত্রীর একত্রে বসবাস করাকে পরিবার বলে । অর্থাৎ বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা , তাদের সন্তানাদি , পিতামাতা এবং অন্যান্য পরিজন নিয়ে যে সংগঠন গড়ে উঠে- তাকে পরিবার বলে৷
পরিবারের ধরণ ও শ্রেণিবিভাগঃ
আমরা সবাই পরিবারে বাস করি । কিন্তু সব পরিবারের প্রকৃতি ও গঠনকাঠামাে এক রকম নয় । কতগুলাে নীতির ভিত্তিতে পরিবারের শ্রেণিবিভাগ করা যায় । যেমন
( ক ) বংশ গণনা ও নেতৃত্ব
( খ ) পারিবারিক কাঠামাে ও
( গ ) বৈবাহিক সূত্র ।
ক . বংশ গণনা ও নেতৃত্ব :
এ নীতির ভিত্তিতে পরিবারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবার I পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে সন্তানরা পিতার বংশপরিচয়ে পরিচিত হয় এবং পিতা পরিবারে নেতৃত্ব দেন । আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবার এ ধরনের ।
অন্যদিকে , মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে মায়ের বংশপরিচয়ে সন্তানরা পরিচিত হয় এবং মা পরিবারে নেতৃত্ব দেন । আমাদের দেশে গারােদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যায় ।
খ . পারিবারিক কাঠামাে :
পারিবারিক গঠন ও কাঠামাের ভিত্তিতে পরিবারকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায় । যথা
১. একক ও
২. যৌথ পরিবার ।
১.একক পরিবারঃ একক পরিবার মা – বাবা ও ভাই – বােন নিয়ে গঠিত হয় । এ ধরনের পরিবার ছােট হয়ে থাকে ।
যৌথ পরিবারঃ যৌথ পরিবারে মা – বাবা , ভাই – বােন , দাদা – দাদি , চাচা – চাচি ও অন্যান্য পরিজন একত্রে বাস করে । যৌথ পরিবার বড় পরিবার । বাংলাদেশে উভয় ধরনের পরিবার রয়েছে । তবে বর্তমানে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে । মূলত যৌথ পরিবার কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি ।
গ . বৈবাহিক সূত্র :
বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে তিন ধরনের পরিবার লক্ষ করা যায় । যথা
১. একপত্নীক
২. বহুপত্নীক ও
৩. বহুপতি পরিবার ।
১. একপত্নীক পরিবারঃ একপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একজন স্ত্রী থাকে ।
২.বহুপত্নীক পরিবারঃ বহুপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে ।
আমাদের সমাজের অধিকাংশ পরিবার একপত্নীক , তবে বহুপত্নীক পরিবারও কদাচিৎ দেখা যায়।
৩.বহুপতি পরিবারঃ বহুপতি পরিবারে একজন স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকে । বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবার দেখা যায় না ।
খ ) যৌথ পরিবার হ্রাস ও একক পরিবার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণঃ
বাংলাদেশে যৌথ পরিবার হ্রাস ও একক পরিবার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ গুলাে নিম্নে ধরা হলােঃ
১ ) সীমিত অর্থনৈতিক যােগানদাতাঃ
একটি যৌথ পরিবার । অনেকগুলাে মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে যার লােক সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন অথবা তার উর্ধ্বে থাকলেও অনেক যৌথ পরিবারে অর্থনৈতিক যােগানদাতা মাত্র ২ থেকে ৪ জন থাকেন আবার তাদের আয়ের পরিমাণও সমান না । এ অবস্থায় যৌথ পরিবারে থেকে পরিবার চালনা অত্যান্ত কষ্টসসাধ্য হয় এমনকি তারা নিজের এবং নিজের স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই যৌথ পরিবার ভেঙ্গে মা , বাবা দাদা , দাদী অন্যান্য সদস্যদের ছেড়ে একক পরিবার গঠনের চিন্তা করেন।
২ ) ব্যক্তি স্বার্থপরতাঃ
যৌথ পরিবারের অর্থনৈতিক যােগানদাতা ব্যক্তিগণ অনেক সময় সবার সাথে মিলেমিশে যৌথ সম্পত্তি গড়ে তােলার পাশাপাশি যৌথ পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজের নিজের স্ত্রী অথবা সন্তানের নামে আলাদা সম্পত্তি গড়ে তুলেন।পরবর্তীতে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে জানাজানি হলে ঝগড়ার হয় আর যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় ।
৩ ) কর্মজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধিঃ
পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মজীবী সদস্যগণ চাকুরীর সুবাদে দীর্ঘদিন তাদের যৌথ পরিবারের বাহিরে দেশ – বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকতে হয় ।
ফলশ্রুতিতে এক সময় তাদের মধ্যে যৌথ পরিবারে থাকার আগ্রহ কমে যায় বা তাদের সন্তানাদি ও মা বাবার সাথে একক পরিবারে থাকতে অভ্যস্ত থাকায় তারা আর যৌথ পরিবারে মনােভাব হয় তখন তারা তাদের পরিবারের কর্তাব্যক্তির বিভিন্ন সিন্ধান্ত মানতেও নারাজ । ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যেতে থাকে ।
৪ ) ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারঃ
বর্তমান সমাজে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলাে ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার । পরিবারের প্রত্যেক ব্যক্তি চান পরিবারের সকল সদস্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে । এতে পরিবারের অন্যদের মধ্যে পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গঠনের প্রবণতা দেখা যায় ।
গ ) একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলীঃ
একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলী নিম্নে তুলে ধরা হলােঃ
১ ) শিক্ষাক্ষেত্রেঃ পরিবার হলাে শিশুর প্রথম পাঠশালা । একটি আদর্শ পরিবার উক্ত পরিবারের প্রত্যেকটি শিশুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিদ্যালয় যাওয়ার পূর্ব থেকেই পাঠদান করা শুরু করে । শিশুদেরকে নীতি নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান করে ।
২ ) অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেঃ পরিবারের সদস্যদের খাদ্য , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণের দায়িত্ব পরিবারের । পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে এসব চাহিদা মিটিয়ে থাকে । পরিবারকে কেন্দ্র করে কুটির শিল্প , মৎস্য চাষ , কৃষিকাজ , পশু পালন ইত্যাদি অর্থনৈতিক কাজ সম্পাদিত হয় । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের জায়গাগুলাে অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়েছে এবং নতুন নতুন কাজের সুযােগ সৃষ্টি হয়েছে । কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে হ্রাস পেয়েছে । তবে একটি আদর্শ পরিবার , আজও পরিবারের সকল সদস্যের ভরণপােষণের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে ।
৩ ) মনস্তাত্ত্বিক কাজে : পরিবার মায়া – মমতা , স্নেহ – ভালােবাসা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাহিদা পূরণ করে । একটি আদর্শ পরিবার এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ।
৪ ) বিনােদনমূলক কাজে : একটি আদর্শ পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সাথে গল্প – গুজব , হাসি – ঠাট্টা , গান – বাজনা , টিভি দেখা , বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিনােদন মূলক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে ।
৫. জৈবিক কাজ : আমাদের মা – বাবা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলেই আমরা জন্মগ্রহণ করেছি এবং তাদের দ্বারা লালিত – পালিত হচ্ছি । অতএব , সন্তান জন্মদান ও লালন – পালন কাজ জৈবিক কাজ বলা হয় ।
এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১
Tag: এসএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ পৌরনীতি ও নাগরিকতা (সংশোধিত), এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১
(সবচেয়ে আগে সকল তথ্য,গুরুত্বপূর্ণ সকল পিডিএফ, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদেরGoogle News,FacebookএবংTelegram পেজ)